বাসায় ফেরার পথে কিংবা রাস্তায় হাঁটার সময় হঠাৎ কুকুরের আক্রমণের শিকার হলেন শিশু, নারী ও পুরুষসহ ৩৩ জন। এই ঘটনায় আহত হয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন তারা।
গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টার মধ্যবর্তী সময়ে কুমারখালী শহরের হলবাজার, আমতলা এবং ইন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এই আতঙ্কজনক ঘটনাগুলো ঘটে। কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন তারা।
আহতদের মধ্যে মো. রোকনুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি যখন কুমারখালী হলবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন হঠাৎ একটি কালো রঙের কুকুর এসে তাঁকে কামড় দিয়ে দ্রুত চলে যায়। তাঁর পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং চিকিৎসক তাঁকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দিয়েছেন।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সহকারী সার্জন প্রত্যয় বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, “৩৩ জন হাসপাতালে এসেছিলেন। অনেকের বড় ধরনের ক্ষত দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে ২৭ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বাকিদের বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পথচারীদের কামড় দিচ্ছিল একটি ‘পাগলা’ কুকুর। পরবর্তীতে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কালো রঙের ওই কুকুরটিকে শহরের আমতলা ও হলবাজার মোড় হয়ে সর্বশেষ নন্দলালপুর ইউনিয়নের চড়াইকোল এলাকায় দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার রাতে হাসপাতালের পরিস্থিতি ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। দেখা যায়, কেউ কেউ কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ভ্যাকসিন নিচ্ছেন। জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের স্বজন ও আহতদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রাত ৮টার দিকে চড়াইকোল এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন। তিনি জানান, নামাজ পড়ে বাইরে আসতেই একটি কালো কুকুর তাঁকে কামড় দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। চিকিৎসক তাঁকে বৃহস্পতিবার পুনরায় আসার কথা বলেছেন।
এই পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার জানান, একটি কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে কুকুরটিকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।