রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রধান শিক্ষক মাহেদুল আলমকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠিয়ে সেই পদটি দখল করার চেষ্টা চলছে। এতে সহকারী শিক্ষক রাজ্জাকুর রহমানের বিরুদ্ধে তদবির ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মাহেদুল আলমের স্ত্রী মাহফুজা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এই নিয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক রাজ্জাকুর রহমান একাধিকবার মব সৃষ্টি করে মাহেদুল আলমকে হটিয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৮ আগস্ট মাহেদুল আলমকে মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ এলাকার সদরপুরে পথরোধ করে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় মামলা হলে আদালত অভিযুক্ত রাজ্জাকুর রহমানকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। জেল থেকে বের হওয়ার পরপরই মাহেদুল আলমকে রাজনৈতিক মামলায় জেলে পাঠানোর চেষ্টা করেন রাজ্জাকুর রহমান। তবে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো কমিটি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তালিকাতেও মাহেদুল আলমের নাম না থাকায় তার নামে মামলা দিতে ব্যর্থ হন রাজ্জাকুর রহমান।
এরপর চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রংপুর নগরীর মডার্ন মোড়ে সহকারী শিক্ষক রাজ্জাকুর রহমানের ছেলে রফিকুর রহমান রাতুল ও কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুল উল আলম মীমের নেতৃত্বে দুলাল, রকি, হাসানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মাহেদুল আলমের পথরোধ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৮ হাজার টাকা নিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এরপরেই পুলিশ মাহেদুল আলমকে মিঠাপুকুর উপজেলা যুবলীগের কর্মী হিসেবে আখ্যায়িত করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ ওমর ফারুকের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে। মাহেদুল আলমকে জেলে পাঠিয়েই প্রধান শিক্ষক হতে বেরোবি ছাত্রদল নেতা সুজন ও মিঠাপুকুর উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি হাসানের মাধ্যমে ইউএনও অফিসে তদবির শুরু করেন সহকারী শিক্ষক রাজ্জাকুর রহমান।
ভুক্তভোগী মাহেদুল আলমের স্ত্রী মাহফুজা খাতুন আরও জানান, তার স্বামী সারাটা জীবন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। মিঠাপুকুর থানায় মামলা দিতে ব্যর্থ হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটনের তাজহাট থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। তার স্বামী জেলে যাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নাজমা পারভীনের দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও সেটি লঙ্ঘন করে দলীয় তদবিরে রাজ্জাকুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
এ বিষয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাহেদুল আলমের স্ত্রী।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. পারভেজ বলেন, মাহেদুল আলম জেলহাজতে থাকায় প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য রাজ্জাকুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পরিপত্র অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে এ বিষয়ে তদবির রয়েছে।
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। ইউএনও বা কোনো ব্যক্তিরই মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের বাইরে গিয়ে আদেশ দেওয়ার সুযোগ নেই।
রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।