পুরস্কার জয়ের পর কৃতজ্ঞতার সাথে পরিচালক রায়হান রাফীকে মঞ্চে ডেকে নিলেন অভিনেত্রী তমা মির্জা। তিনি জানান, তাঁর অভিনয় জীবনের এই বিশেষ অর্জনে এই পরিচালকের অবদান অপরিসীম। সেই কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের পুরস্কারটি তিনি রাফীর প্রতি উৎসর্গ করেন। তবে এই ঘটনার পর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তমাকে নিয়ে কী লিখলেন পরিচালক রাফী?
গতকাল রাতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো আয়োজনে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ইস্পাহানি গ্রুপ এবং দ্য ডেইলি স্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির নাম ছিল 'ব্লেন্ডারস চয়েস-দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস'। এই আসরে রায়হান রাফীর নির্দেশিত ‘আমলনামা’ নাটকে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য সমালোচক পুরস্কার বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর খেতাব অর্জন করেন তমা মির্জা।
পুরস্কার হাতে পাওয়ার পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে তমা বলেন, ‘যাঁর কাছ থেকে আমি অভিনেত্রী হয়ে উঠেছি, আমার অভিনয় যাঁর মধ্য দিয়ে নতুন করে জন্ম নিয়েছে, তিনি রায়হান রাফী। আমি পুরস্কার কখনো আমার বাবা কখনো মাকে উৎসর্গ করি। আমি এবারের পুরস্কারটি রায়হান রাফীকে উৎসর্গ করলাম। কারণ, এই অর্জনের পেছন তাঁর অবদান অনেক বড়, তাঁর কারণেই হয়তো আমার এই ভিন্ন পথচলা। এ জন্য রাফীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’
তমার এই কথা শুনে মঞ্চে উপস্থিত পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, ‘একজন পরিচালকের কাজ অভিনেত্রীকে খুঁজে বের করা। চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনেত্রীদের তৈরি করা। এখানে আসলে কেউ কাউকে তৈরি করতে, অভিনেত্রী বানাতে পারে না। সবাই তাঁর যোগ্যতায় জায়গা করে নেন। তমা অনেক ভালো করেছে। ও অনেক মেধাবী অভিনয়শিল্পী। আশা করছি, আগামী দিনেও আরও ভালো করবে।’
অনুষ্ঠানের পর গভীর রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তমা মির্জার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে আরও বিস্তারিত লিখেছেন রাফী। তিনি লিখেছেন, ‘কিছু অভিনয় পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে যায়, গল্প শেষ হওয়ার পরও যা দীর্ঘ সময় মনে থেকে যায়। “আমলনামা”র শেষ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় তমা মির্জার আবেগঘন অভিনয়ে সেটে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। সেই একই আবেগ দর্শকদের মনেও ছুঁয়ে যেতে দেখে পুরো যাত্রাটি আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।’
উল্লেখ্য যে, ‘আমলনামা’র জন্য জনপ্রিয় ক্যাটাগরিতে সেরা পরিচালকের পুরস্কারও জিতেছেন রায়হান রাফী। নিজের এই বিশেষ অর্জন সম্পর্কে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে “আমলনামা”। এটি ছিল গভীরভাবে ব্যক্তিগত এক যাত্রা, যা গড়ে উঠেছে ভালোবাসা, পারস্পরিক আস্থা এবং অসাধারণ একটি দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।’