বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর মানুষের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা একটি গুরুতর সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি সমাজের সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বিশেষ সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এই 'চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলনে' তিনি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।

শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জন করতে না পারলে তার পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।” শিক্ষার্থীর সঠিক শিক্ষার দায়িত্ব শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়ের ওপর থাকলেও, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সময়ের সাথে সাথে জ্ঞান, দক্ষতা এবং শিক্ষার চাহিদার পরিবর্তন ঘটে, তাই শিক্ষাক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন ববি হাজ্জাজ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন হতে হবে যথাযথ গবেষণা, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় সময় না দিয়ে হঠাৎ করে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে শিক্ষাক্রমে কোনো পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সরকারের বেশ কিছু বহুমাত্রিক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

ড. মাহদী আমিন বলেন, “অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে ৩ মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।” পাশাপাশি, উত্তরপত্রের কেবল নম্বর যোগ-বিয়োগ না দেখে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের মাধ্যমে খাতা পুনর্নিরীক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, খারাপ ফলাফলের পেছনে কেবল মেধার ঘাটতি নয়, বরং আর্থিক অসংগতি, দক্ষ শিক্ষকের অভাব, দুর্বল অবকাঠামো কিংবা পারিবারিক নানা কারণ থাকতে পারে। তাই প্রায় ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর এই সমস্যা সমাধানে সরকার সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন ও ব্র্যাক আইইডি এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মরিয়ম, প্রিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. আরিফুর রহমান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, তরুণ লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার সাদাত হোসাইন এবং নিউজিল্যান্ড ডেইরির চিফ মার্কেটিং অফিসার আসিফ রউফ।