পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির প্রসার এবং দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে নতুন এক পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’।
রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত ওয়ালটনের করপোরেট কার্যালয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ইকো-সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পুরো কার্যক্রমটি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এস এম সামসুল আলমের সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের বিদ্যুৎ খাতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে তেল ও গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানি আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘জনগণের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওয়ালটনের উদ্যোগ সম্পর্কে দেশের মানুষকে জানানো প্রয়োজন।’
অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ১-২ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে বড় ধরনের সহায়তা মিলবে, বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যয় হ্রাস পেতে পারে এবং জ্বালানি আমদানির জন্য ব্যয় করা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে সোলার ইকো-সিস্টেমের আওতায় ওয়ালটনের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। প্রদর্শিত পণ্যের তালিকায় ছিল ইনভার্টার, সোলার পাওয়ার প্যানেল, স্টোরেজ ব্যাটারি এবং সোলার ক্যাবল। এছাড়া সোলার পাওয়ারভিত্তিক হাইব্রিড এসি, ফোর-ডোর ইনভার্টার রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, বিএলডিসি সিলিং ফ্যান, স্ট্রিট লাইট, এলইডি বাল্ব এবং ইলেকট্রিক চুলাসহ আরও অনেক ধরনের উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি।