প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগের মুখে বাতিল হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার এই বহুল প্রতীক্ষিত পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার জন্য এই পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, ২৪২টি পদের বিপরীতে এই নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী। গত শনিবার পরীক্ষা দিতে তারা যখন ঢাকায় এসে পৌঁছান, ঠিক সেই মুহূর্তে তারা পরীক্ষা বাতিলের খবর পান। এর ফলে যাতায়াত, আবাসন এবং খাবারের খরচসহ নানা ধরনের আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়েন প্রার্থীরা। পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসার পরপরই ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সড়কে নেমে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তোলেন।

গত শনিবার সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রার্থীরা ঢাকায় জড়ো হন। তবে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয় যখন পরীক্ষাকেন্দ্রে ওএমআর শিট বিতরণের মাত্র দুই মিনিট পর তাঁদের জানানো হয় যে, পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

যশোরের এম এম কলেজের শিক্ষার্থী ফারিয়া ফেরদৌস পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি জানান, “কেন্দ্রে ওএমআর শিট দেওয়ার পরপরই পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।” প্রস্তুতি নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসার পর এমন চরম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, তা তাঁরা কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।

পরীক্ষা বাতিলের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর মতিঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সাত মসজিদ রোডসহ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়কে নেমে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের ক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল, পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত দেরিতে, অর্থাৎ পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর জানানো হয়েছে। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াত, থাকা ও খাবারের জন্য করা ব্যয় তাঁদের কাছে এক অনিশ্চিত ক্ষতিতে পরিণত হয়।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক প্রার্থী প্রশ্ন তোলেন, প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন, এখন তাঁদের যাতায়াত, থাকা ও খাবারের খরচ কে বহন করবে? এই ক্ষোভ থেকে প্রার্থীদের কেউ কেউ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রার্থীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আগেই আলোচনা থাকলেও কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় তাঁরা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নপত্রের কিছু অংশের মিল পাওয়া যায়।” এই কারণেই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।

পরীক্ষা বাতিলের পর নতুন তারিখের জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিলেন প্রার্থীরা। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখন ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে। ফলে প্রার্থীদের আবারও নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে। যাঁরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে আগের দিন চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন, তাঁদের জন্য নতুন তারিখে পরীক্ষা দিতে পুনরায় যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে।

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। এ পদে ২৪২ জন নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় তিন লাখ প্রার্থী। সেই হিসাবে প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চাকরির বাজারে সরকারি পদের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে নিয়োগ পরীক্ষাগুলো প্রার্থীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি, যাতায়াত ও আবাসনের পেছনে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন। তাই পরীক্ষা বাতিল হলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তাঁদের সময় ও প্রস্তুতিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থানের প্রত্যাশার মধ্যে সরকারি চাকরির সীমিত পদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

নতুন তারিখ ঘোষণায় পরীক্ষার্থীদের সামনে এখন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আগের দিনের ভোগান্তির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।