কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৪) ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর প্রমাণ মুছে ফেলতে মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করেছেন অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫)। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার উদ্দেশ্যেই তিনি এই কাজ করেন। এই ঘটনার পর আসামি মরদেহ ফেলে রেখে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করেন। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ধারণায় এসেছে যে, অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।
পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেছিলেন তাজমিন। সে সময় ভাড়া নির্ধারিত হয় ৩০০ টাকা। পরবর্তীতে চালক সুমন তাকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন বলে আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
হত্যার পর তাজমিনের হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে নেন সুমন। এরপর তিনি ব্যাগটি একটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পালানোর পথে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে নেমে গোসল করেন তিনি। সেখান থেকে অন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাখরাবাদ এলাকায় যান এবং ওই এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, নিহত তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সাথে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন। গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর (উত্তরপাড়া) গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।