জনস্বাস্থ্য, উন্নয়ন এবং গবেষণা পদ্ধতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন মো. মেসবাহউর রহমান। তার এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাময়িকীতে তার ৬০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার এই তালিকায় রয়েছে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী দ্য ল্যানসেট, ন্যাচার, এলসিভিয়ার, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, বায়োমেড সেন্ট্রাল এবং ওয়াইলির মতো অত্যন্ত নামি-দামি সব জার্নাল।

মেসবাহউর রহমানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা যশোরের সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামে। তার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল বেলেরমাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শৈশব ও কৈশোরের দীর্ঘ সময় তিনি যশোরেই অতিবাহিত করেন। আমবটতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং হামিদপুর আলহেরা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) পরিসংখ্যান বিভাগে (২০১১-১২ সেশন) ভর্তি হন। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে তিনি গবেষণার জগতে মনোনিবেশ করেন।

বর্তমানে তিনি সরকারের জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) বায়োস্ট্যাটিস্টিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, নিপসম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত একটি শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করে থাকে।

২০২৩ সালে বায়োলজিক্যাল উপায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মেসবাহউর রহমানের একটি বিশেষ গবেষণা প্রকাশিত হয় চাইনিজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও চাইনিজ সিডিসির যৌথ সাময়িকী বায়োসেফটি অ্যান্ড হেলথে। এই গবেষণাটি বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একাধিক জনপ্রিয় গণমাধ্যমসহ বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্ল্যাটফর্ম সাইন্সের ফিজিক্স ডট অর্গ (Phys.org) সেকশনে গবেষণাটি গুরুত্বের সঙ্গে ফিচার করা হয়।

নিজের এই সাফল্যের বিষয়ে মেসবাহউর রহমান বললেন, “সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যাবসায় থাকলে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করা সম্ভব। বায়োস্ট্যাটিস্টিক্স ও জনস্বাস্থ্য খাতকে আরও এগিয়ে নিতে আমার গবেষণা কাজ অব্যাহত রাখতে চাই।”