দেশের সামগ্রিক লেনদেন ব্যবস্থাকে নগদবিহীন করতে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি জোরদার করতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ কিংবা নবায়নের ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ সেবা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়েছে। সরকারি এই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেকোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করার সময় বা পুরোনো লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়ায় ‘বাংলা কিউআর’ সেবা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এই শর্তটি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ—সব স্তরের লাইসেন্স প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

নির্দেশনাটি কার্যকর করতে দেশের সকল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের ওপর।

এর আগে ১ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (পিএসডি-১) আ ন ম মঈনুল কবীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের ৩২ লাখ ৬১ হাজার মার্চেন্ট বাংলা কিউআরের আওতায় এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের সাথে বাংলা কিউআর সেবা যুক্ত করা হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা সহজ হবে। একই সাথে এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে এবং দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই চিঠিতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর সাথে বাংলা কিউআর সংযুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা পর্যায়ে ট্রেড লাইসেন্সের সাথে বাংলা কিউআর সেবা যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়িয়ে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলো।

কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে কেবল বড় শহরগুলোই নয়, বরং প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেনের একটি বড় অংশ নগদনির্ভরতা থেকে মুক্ত হয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে।