যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে না বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা বর্তমানে ‘ফলপ্রসূ’ পর্যায়ে রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমরা ইরানে হামলা চালাব না।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আশ্বাসের ঠিক আগেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়, ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে ওই সম্ভাব্য হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই সুযোগে ওয়াশিংটন সহজ কিংবা কঠিন—যেকোনো উপায়েই যুদ্ধ শেষ করার সক্ষমতা রাখে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা সবচেয়ে ইতিবাচক হবে, ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তই নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে সর্বাত্মক হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এই সংঘাত বন্ধে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। যদিও উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবে তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে আছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিভিন্ন দেশে তেলসহ জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। জ্বালানি পণ্যের দাম এতে বহুগুণ বেড়ে গেছে।