লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে লড়াই করার সুযোগ পেয়েছিলেন বেনিনের ফুটবলাররা। তবে সেই স্মরণীয় মুহূর্তটিকে ধরে রাখতে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সঙ্গে ছবি তোলা কিংবা জার্সি বিনিময়ের যে ইচ্ছা তাদের ছিল, তা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। এমনকি নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের দিকে যাওয়ার পথে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বেনিন দলের কোচ গার্নট রোর।

গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান মেসি। নিজের শেষ ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের মাধ্যমে আরও দুটি গোল নিশ্চিত করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ম্যাচ পরবর্তী সময়ে মেসিকে ঘিরে অত্যন্ত আবেগঘন এক বিদায়ী আয়োজন করা হয়। তবে সেই উৎসবের অংশ হতে না পারার গভীর আক্ষেপ রয়ে গেছে বেনিনের ফুটবলারদের মনে। ফরাসি রেডিও আরএমসি স্পোর্টের ‘রোথেন সঁফ্লাম’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় এই অভিজ্ঞতার কথা জানান কোচ রোর।

বেনিন কোচ বলেন, “আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই রাতের একমাত্র আক্ষেপ, আর্জেন্টাইনরা আমাদের কিছুই দেয়নি। মেসির সঙ্গে একটি ছবিও নয়, একটি জার্সিও নয়।”

কেন ছবি তোলা কিংবা জার্সি বিনিময় সম্ভব হয়নি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ।

তার ভাষায়, “তারা আমাদের খেলোয়াড়দের করিডোরেও ঢুকতে দেয়নি, এমনকি ড্রেসিংরুমেও নয়। নিরাপত্তাকর্মীরা সবাইকে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। কয়েকজন খেলোয়াড় জার্সি বিনিময়ের আশায় নিজেদের জার্সি নিয়ে এসেছিল। আমরা সব রকম চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই পাইনি।”

মজার বিষয় হলো, ম্যাচের আগেই মেসিকে সম্মান জানাতে বিশেষ উপহারের আয়োজন করেছিল বেনিন দল। দলের অধিনায়ক সেসি দালমেইদা মেসির হাতে দাহোমে রাজ্যের নারী যোদ্ধাদের একটি মূর্তি, একটি গোলাপ এবং সতীর্থদের লেখা একটি চিঠি তুলে দিয়েছিলেন। এছাড়া বেনিনের জাতীয় পতাকার রঙে সাজানো ফুলের তোড়াও উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা।

পুরো দল খালি হাতে ফিরলেও কোচ রোর ব্যক্তিগতভাবে মেসির স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। ২০১৮ বিশ্বকাপের সময়কার মেসির একটি জার্সি তার কাছে ছিল, যা তিনি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির হাতে দেন। পরবর্তীতে স্কালোনি মেসির স্বাক্ষর করিয়ে জার্সিটি তাকে ফিরিয়ে দেন।

রোর বলেন, “২০১৮ সালের মেসির একটি জার্সি স্কালোনিকে দিয়েছিলাম। তিনি সেটিতে মেসির স্বাক্ষর করিয়ে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আধঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তবে সেটুকুই।”

এতসব প্রতিকূলতার পরেও মেসির বিদায়ী ম্যাচে অংশ নেওয়াকে একটি বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন বেনিন কোচ। তার মতে, তরুণ ফুটবলারদের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল অনন্য।

তিনি বলেন, “আমার তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটি ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। মেসির মতো একজন কিংবদন্তির বিদায়ের অংশ হতে পেরে আমরা আনন্দিত”।

তবে বেনিন কোচের এই অভিযোগের বিষয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে যে, তারা এই বিষয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে।