দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ গতকাল বুধবার সকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানানো হয়েছে। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ৪০ জন মারা গেছেন। অন্যদিকে, নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১০৪ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম সব বয়সের মানুষের মধ্যেই হতে পারে, যদিও শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। তারা আরও জানান, প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু ঘটে, সেগুলোকে সাধারণত হামে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
আজকের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৩২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সেই হিসেবে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৬২৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৬ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ২২ হাজার ১১৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তির তথ্যে দেখা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়েছেন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট বিভাগে। এই বিভাগে দুজন মারা গেছেন, যাদের একজন সিলেট জেলার এবং অন্যজন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। এছাড়া ঢাকা ও খুলনা জেলায় একজন করে মোট দুজনের মৃত্যু হয়েছে।