সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার। তাঁর দাবি, জিয়াউলকে একটি গাড়িতে করে একা আনা-নেওয়া করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুনানির এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘প্রিজন ভ্যানে জিয়াউলকে একা আনা-নেওয়া করা বিপজ্জনক, উদ্বেগজনক বিষয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততটা ভালো নয়। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এককভাবে না এনে, জিয়াউল আহসানকে যেন অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা হয়।’

আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আইনজীবী নাজনীন নাহার এই আবেদন জানান। তবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন এই আবেদনের বিরোধিতা করে।

শুনানির সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এক বিকল্প প্রস্তাব দেন। তিনি আবেদন করেন যেন আসামি জিয়াউল আহসানকে জেলখানায় রেখে ভিডিও কনফারেন্স বা ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, কারাগার থেকে ভিডিওর মাধ্যমে আসামির অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার আরও বলেন, “অন্য আসামিরা জীবননাশের আশঙ্কার কথা বলছেন না। জিয়াউল যে নিরাপত্তার কথা বলছেন, এটা স্বীকার করেই তিনি বলছেন, তাঁকে না এনে কারাগারে রেখে ভার্চ্যুয়ালি শুনানি করা হোক।”

রাষ্ট্রপক্ষের এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্য সব আসামির সঙ্গে জিয়াউলকে আনলে সমস্যা কোথায়? তিনি আরও জানান, সাধারণত অন্য কোনো আসামিকে একা আনা হয় না। তবে জিয়াউলকে কেন একা আনা হচ্ছে, সেই উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলার অনুমতি চাইলে আসামি জিয়াউল আহসান তাঁর উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, তাঁকে একা একটি গাড়িতে আনার উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে তাঁর ওপর দায় চাপাবে।

আসামির এই দাবি ও আইনজীবীর আবেদনের ওপর ট্রাইব্যুনাল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ প্রদান করেননি।

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আইনজীবী নাজনীন নাহার জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি করার পর থেকে জিয়াউল আহসানকে অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা হতো। কিন্তু গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁকে একা একটি প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলা চলছে, যার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া এখন শেষের দিকে। বর্তমানে ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।