শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির করা হবে না। এখন থেকে তিনি কারাগার থেকেই ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে অংশগ্রহণ করবেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানান, তাঁদের করা আবেদনটি ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেছেন। সেই অনুযায়ী, আজ থেকেই জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখে ভার্চ্যুয়ালি মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী এবং তাঁর বোন নাজনীন নাহার একটি বিষয় উত্থাপন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, “তাঁকে (জিয়াউল আহসান) কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে একা একটি গাড়িতে আনা-নেওয়া করা হয়।”
শুনানির সেই সময়ে নাজনীন নাহার আরও বলেছিলেন, “প্রিজন ভ্যানে জিয়াউল আহসানকে একা আনা-নেওয়া করা বিপজ্জনক, উদ্বেগজনক বিষয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততটা ভালো নয়। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এককভাবে না এনে তাঁকে যেন অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা হয়।”
তবে জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর এই আবেদনের সাথে একমত হয়নি প্রসিকিউশন এবং তারা এর বিরোধিতা করে। ওই দিনের শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার একটি বিকল্প প্রস্তাব দেন। তিনি আবেদন করেন যেন জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখে সেখান থেকে ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, কারাগার থেকে ভিডিওর মাধ্যমে আসামির অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
সেদিন ট্রাইব্যুনাল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ প্রদান করেননি। তবে আজ প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, তাঁদের সেই আবেদনটি ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেছেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বর্তমানে কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।