রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তাঁর উপশহরের বাসভবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তাঁকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয়। এই সময়ে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল এবং উলামা দলের নেতারাও অস্থায়ী ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

আজ সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে উপাচার্যের কক্ষের তালা কেটে খুলে দেওয়া হয়। এরপর কক্ষটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই কক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন। তালা খোলার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতারা উপাচার্যের বাসভবনে যান। তাঁদের মধ্যে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি এবং মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া ওই অপ্রীতিকর ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা উপাচার্যকে বাসা থেকে নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছেন।”

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্যের কক্ষে ঢুকে তাঁকে একটি কাগজে সই করতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে। উপাচার্যের ভাষ্যমতে, তাঁকে কাগজটি পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে, সই না করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তিনি সই করতে বাধ্য হন। এরপর তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ওই ঘটনার পর উপাচার্যের মুঠোফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরার সিপিইউ ও হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়া এবং বেশ কিছু কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় আজ সকাল পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন রাজশাহী নগরের বহরমপুর মোড় এলাকার আলী আকবর হোসাইন (৩০) এবং দেলোয়ার হোসেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, “ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।”