রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত মব তৈরির মাধ্যমে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হকের পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছেন। উক্ত বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম এবং জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেনের সম্মতিক্রমে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
এনডিএফ নেতৃবৃন্দের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একত্রিত হয়ে একটি মব তৈরি করে। এরপর তারা উপাচার্যের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে তাকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই সময় অধ্যাপক মোফাখখারুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি এই বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন।
চিকিৎসক নেতারা তাদের বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা সংঘবদ্ধ মব তৈরির মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তারা মনে করেন, উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা শিক্ষার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই আইন, বিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
এনডিএফ দাবি করেছে, এসব অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাটি জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক কিংবা প্রভাবশালী পরিচয় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে। একই সঙ্গে কারা কীভাবে সেখানে জড়ো হয়েছিল, কীভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং পদত্যাগে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, এনডিএফ মনে করে, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।” এছাড়া মব-তৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।