টাঙ্গাইলের মধুপুরে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কয়েক মিনিটের তীব্র ঝড়ে ১১শ বিঘার জমির ফসল লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশেষ করে ৫৩ হেক্টর জমির কলা ও পেঁপে বাগান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে অসংখ্য কলাগাছ ভেঙে পড়ায় এবং উপড়ে যাওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) আকস্মিক এই ঝড়ের তাণ্ডবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগানগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে আনারস ও বিভিন্ন সবজি বাগানের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব সংগ্রহের কাজ চলছে।
স্থানীয় কৃষকদের আক্ষেপ, দীর্ঘদিনের কঠোর শ্রম, অর্থ ব্যয় ও সঠিক পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক তাদের সঞ্চিত অর্থ এবং ধারদেনা করে কলা, আনারস ও পেঁপে চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এই ঝড়ে এক নিমিষেই তাদের সেই দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক লালচাদের ভাষ্য, “একটি কলাগাছ তৈরি করতে কয়েক মাস সময় ও টাকা লাগে। ফলন আসার পর যদি গাছ ভেঙে যায়, তাহলে পুরো বিনিয়োগই অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি সামাল দেওয়া খুব কঠিন।”
হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, “জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছি। ফসল ভালো হলে পরিবারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল।”
আরেক কৃষক শাহ আলম বলেন, “একটি কলাগাছ ভেঙে পড়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ, পরিবারের ব্যয় এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।” ফলে বাগানের এই ব্যাপক ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে বলে তিনি জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই বিপর্যয় কাটিয়ে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কৃষকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে। তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, “প্রাথমিকভাবে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।”