জাতীয় সংসদের হুইপ এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দলের কোনো নেতা বা কর্মীর ব্যক্তিগত কোনো অপকর্মের দায়ভার বিএনপি গ্রহণ করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যত বড় ত্যাগী বা আত্মত্যাগীই হোন না কেন, তাঁর কোনো অপকর্মের দায় বিএনপি বা রাষ্ট্র নেবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রোববার স্থানীয় সময় জি কে গউছ এসব কথা বলেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরীর (শিপলু)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির নেতা লোকমান হোসেন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন। এরপর উপস্থিত নেতা-কর্মীরা জি কে গউছকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানান।

হবিগঞ্জের তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা জি কে গউছ টানা তিনবার হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, কেবল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন এবং তাঁকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছিল। এর ফলে তাঁকে দীর্ঘ সাড়ে ২৬ মাস কারাগারে কাটাতে হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কারাগারে থাকা অবস্থাতেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন।

অনুষ্ঠানে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত সাবেক ছাত্রনেতা, বর্তমান বিএনপি নেতা-কর্মী এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রবাসে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে জি কে গউছ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশে অনিয়মগুলো নিয়মে পরিণত হয়েছিল। এখন দেশ সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন আইন অমান্য করার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন না মানার একটি নেতিবাচক অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে।

৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জি কে গউছ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণেই বাংলাদেশে ৫ আগস্টের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, মানুষের জীবন যেখানে স্থায়ী নয়, সেখানে ক্ষমতাও চিরস্থায়ী হতে পারে না। ৫ আগস্টের পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা উল্লেখ করে জি কে গউছ বলেন, ধ্বংস বা প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহনশীলতা, প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে বিএনপির এই নেতা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলা বাধ্যতামূলক। শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেকোনো অপশক্তির মোকাবিলা করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দলের সিদ্ধান্ত না মানলে দলের পরিচয় বহন করার অধিকার থাকবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় দল বহন করবে না। দলের কোনো ব্যক্তি দলের চোখ এড়িয়ে যেতে পারবেন না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে জি কে গউছ বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ তারেক রহমানের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। বর্তমানে তারেক রহমান জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন এবং তিনি একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল বাসেত, বিএনপির নেতা সৈয়দ নাসির জেবুল, মোহাম্মদ আবদুল মুনিম, লায়েক আহমেদ, বদরুল আলম মাসুদ, আফজাল হোসাইন সিকদার, মুশফিকুর চৌধুরী, মোরশেদুল ইসলাম, মাতাব আহমেদ, ইয়ামিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান জামশেদ, মনিরুল ইসলামসহ ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের zahlreiche নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।