ঠাকুরগাঁওয়ে ১০৬ জন গ্রাহকের কাছ থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করে তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মো. গোলাম কাদেরের বিরুদ্ধে। সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম-প্রশাসন) মো. গোলজার হোসেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত মো. গোলাম কাদের (৩২) ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া গ্রামের মৃত ছালে আহাম্মদ মাতুব্বরের ছেলে। মামলার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বোচাপুকুর এলাকার ১০৬ জন গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যুৎ বিলের কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে বকেয়া বিলের টাকা আদায় করেন গোলাম কাদের। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত ওই অর্থ সমিতিতে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেন। এরপর গত ২৭ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং আত্মগোপনে চলে যান। তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও বর্তমানে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিল জমা না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা যায়, বোচাপুকুর এলাকার ১০৬ জন গ্রাহকের কাছ থেকে সরকারি রাজস্ব হিসেবে মোট ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৮ টাকা আদায় করা হলেও তা সমিতিতে জমা দেওয়া হয়নি, বরং আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে বোচাপুকুর এলাকার মহসিন আলী বলেন, “আমি প্রতি মাসের বিল প্রতি মাসে দিই। ৬ মাসের বিল আমার জমা হয়নি। এখন আমার বকেয়া বিল ৩৫ হাজার টাকা। এত টাকা আমি কোথায় পাব। বিদ্যুৎ বিভাগ আমার টাকা ফেরত দিক, না হয় আমার বিল পরিশোধ করুক।”
আকবর আলী নামে আরেক গ্রাহক জানান, “গোলাম কাদের পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করেন। আমার তাকে বিল দিয়েছি। তিনি কাগজে সই করছেন। এ মাসে শুনেছি আমার ৮ মাসের বিল বাকি। আমার বাসার লাইন কেটে দিতে আসছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আমি টাকা পরিশোধ করেছি। আমি আর কোনো টাকা দিতে পারবো না।”
বিলকিস আক্তার নামে একজন গ্রাহক আক্ষেপ করে বলেন, “বাড়িতে এসে বিল নিয়ে যায়। বিলের কাগজে সই করে। আমরা মনে করছি, টাকা পরিশোধ। এ মাসে দেখছি আমার বিদ্যুৎ বিল ৭ মাসের বাকি ২৬ হাজার টাকা। আমি তো টাকা পরিশোধ করেছি। আমরা আর কোনো টাকা দিতে পারবো না।”
মামলার বাদী মো. গোলজার হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “গোলাম কাদের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত হয়ে পালিয়ে গেছেন। তদন্তে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী মুক্তকণ্ঠকে জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়ার পর ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪০৮ ধারায় (বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ) মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম কাদের বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।