নোয়াখালীর চাটখিলে পল্লী বিদ্যুতের এক আবাসিক গ্রাহকের সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘরে মাত্র কয়েকটি বাতি, ফ্যান এবং একটি ফ্রিজ ব্যবহারের পর এমন আকাশচুম্বী বিল আসায় চরম হতবাক হয়ে যান ওই গ্রাহক। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং বিলটি সংশোধন করে দেয়।
সংশোধিত বিল অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ওই গ্রাহককে এখন পরিশোধ করতে হবে মাত্র ১ হাজার ২৩৮ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমান সরাসরি ওই গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে সংশোধিত বিলের কপি হস্তান্তর করেন। এসময় তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য গ্রাহকের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিকে এই গুরুতর গাফিলতির দায়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মচারীকে তাঁর কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত ওই কর্মচারীর নাম মমতাজ বেগম, যিনি চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ে বিলিং সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই ‘ভুতুড়ে বিল’-এর রহস্য উদঘাটন ও তদন্তের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সমিতির সেনবাগ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মিনারুল ইসলামকে। আজ মঙ্গলবার সকালেই এই কমিটি গঠন করা হয় এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়ির এক গ্রাহকের বাড়িতে। মিটারটি ছিল মৃত আবু তাহেরের নামে, যা বর্তমানে তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি ব্যবহার করছেন। সেপ্টেম্বর মাসে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ তাঁদের মিটারে বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। অথচ তার ঠিক আগের মাস আগস্টে বিদ্যুৎ বিল ছিল মাত্র ১ হাজার ৩২৬ টাকা।
শহীদুল ইসলাম জানান, তাঁর বাড়িতে মাত্র কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ এবং একটি আইপিএস ব্যবহৃত হয়। এর বাইরে কোনো ভারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সেখানে নেই। তিনি আরও জানান, গত পাঁচ মাসে গড়ে তাঁর বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল ১৮৭ ইউনিট, কিন্তু সেপ্টেম্বরে রহস্যজনকভাবে তা ছয় হাজার ইউনিট দেখানো হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের বিল প্রস্তুতকারী কর্মীদের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন ‘ভুতুড়ে বিল’ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শহীদুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে, এই অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে গতকাল মুক্তকণ্ঠের অনলাইনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদের পরই পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা তাঁর কাছে এসে সংশোধিত বিল হস্তান্তর করেন।
বিল সংশোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মকবুল আহমদ আজ মঙ্গলবার সকালে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘যিনি মিটারের রিডিং নেন। তিনি ঠিকভাবেই রিডিং নিয়েছেন। ঠিকঠাক রিডিং নেওয়ার পরও কেন ভুল বিল তৈরি হলো সেটি তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মকবুল আহমদ আরও জানান, ভুল বিলের সংবাদটি প্রকাশের পর পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তাঁর নির্দেশই কার্যকর করে সংশ্লিষ্ট বিলিং সহকারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভুল আর না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।