চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার এক অভিযানে এক গাড়িচালককে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে এই ঘটনা ঘটে, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নগরের চকবাজার এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, বিলবোর্ড এবং ফেস্টুন উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন লক্ষ্য করেন যে, একটি প্রাইভেটকার বেআইনিভাবে সড়কের ওপর রাখা হয়েছে। এতে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তার নির্দেশে ওই গাড়িচালককে কান ধরে ওঠবস করতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে মেয়রকে স্পষ্টভাবে বলতে শোনা যায়, “কান ধরো, ১০ বার ওঠবস করো।” শুধু গাড়িচালকই নন, ওই স্থানে দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকেও কড়া ভাষায় সতর্ক করেন মেয়র। তিনি উল্লেখ করেন যে, সড়কে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
ঘটনার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে শহরের যানজট নিরসন ও অবৈধ পার্কিং রোধে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও, বড় একটি অংশ একজন নাগরিককে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে এভাবে প্রকাশ্যে শাস্তির আওতায় আনা বা অপদস্থ করার বিষয়টি নিয়ে নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪৭ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও যানবাহন পার্ক করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করলে আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং চালকের ক্ষেত্রে ১ দোষসূচক পয়েন্ট কর্তনের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে এভাবে প্রকাশ্যে শাস্তির প্রয়োগ করা নিয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আখতার কবির চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে আইনি নিয়মেই শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন নাগরিককে এভাবে প্রকাশ্যে অসম্মান করা সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনুশোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করা উচিত।”
পুরো বিষয়টি নিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।