ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই প্রযুক্তির প্রসার ঘটানোর অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আজ বুধবার শেষ হয়েছে ‘অ্যাসোসিও ডিজিটাল অ্যান্ড এআই সামিট ২০২৬’। এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন (অ্যাসোসিও), যা এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি শীর্ষ সংগঠন, তাদের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে মোট ২৭টি দেশের বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ এবং ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের শেষ দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি (IoT), স্মার্ট সিটি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল এআই কেন্দ্রিক একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন ইন্দোনেশিয়ার ক্রিয়েটিভ ইকোনমিমন্ত্রী তেওকু রিফকি হারসিয়া। প্রদর্শনী পরিদর্শনের পর ‘এআই এক্সপেরিমেন্টস টু এআই ফ্যাক্টরি’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই সাথে ক্লাউডসেকের বিভিন্ন কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

দুপুরের পরবর্তী সময়ে এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলের জন্য একটি শক্তিশালী এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বিশেষ সংলাপ ও প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশ নেন প্রথিতযশা প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা। আলোচনায় তাঁরা পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তঃসীমান্ত বা ক্রস-বর্ডার স্টার্টআপ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এরপর এআই গভর্ন্যান্স, ডিভাইস-লেভেল এআই প্ল্যাটফর্ম এবং এন্টারপ্রাইজ ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন বিষয়ে পৃথক সেশনগুলো সম্পন্ন হয়। বিকেলের জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে আগামীবারের আয়োজক দেশ হিসেবে মিয়ানমারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।

সম্মেলন শেষে অ্যাসোসিওর চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ার স্ট্যান সিং-জিৎ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে সফল একটা সম্মেলন করতে পেরেছি। অ্যাসোসিওর পক্ষ থেকে আমি পলিসি টাস্কফোর্স কমিটি, গবেষণা দল, সদস্যদেশ এবং সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যাঁদের নিষ্ঠা ও দক্ষতার কারণে এই সম্মেলন সফল হয়েছে। আমরা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছি, ২০২৭ সালে অ্যাসোসিও ডিজিটাল সামিট হবে মিয়ানমারে।’