তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগঠন এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন বা অ্যাসোসিও-এর মর্যাদাপূর্ণ ‘অ্যাসোসিও ডিজিটাল অ্যান্ড এআই অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নসহ মোট ১২টি প্রধান শ্রেণিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তিনটি প্রতিষ্ঠান পুরস্কার জয় করে দেশবরেণ্য সম্মান অর্জন করেছে।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই পুরস্কারগুলো ঘোষণা করা হয়। পুরস্কারগুলো বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন অ্যাসোসিওর চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ার স্ট্যান সিং-জিৎ এবং অ্যাসোসিওর আজীবন চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ এইচ কাফি।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের তিনটি উদ্ভাবনী ও সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘অ্যাসোসিও ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে বাংলাদেশের ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি সেবার প্রসার ঘটিয়ে ‘অ্যাসোসিও গ্লোবাল বিজনেস সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে ‘দ্য ডাটাবিজ সফটওয়্যার লিমিটেড’। এছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ও উদ্ভাবনী ব্যবহারের জন্য ‘অ্যাসোসিও এআই ইন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে ‘স্কিলআপার’। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর এই সম্মানজনক পুরস্কার প্রদান করে আসছে সংগঠনটি।

এই অর্জনের বিষয়ে ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনির হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘অ্যাসোসিও ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অর্জন কেবল ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের নয়, এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরেকটি গর্বের মাইলফলক। ১৮ বছর ধরে দেশের তরুণসমাজকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতায় গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করার যে নিরলস যাত্রা, এই স্বীকৃতি তারই ফল। এই অভাবনীয় অর্জনের পেছনে আমাদের শিক্ষার্থী, সম্মানিত মেন্টর, অ্যালামনাই, কর্মী ও সব শুভানুধ্যায়ীর যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও অবদান ছিল, তার প্রতি জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।’

উল্লেখ্য যে, এবার অ্যাসোসিও পুরস্কার মোট ১২টি শ্রেণিতে প্রদান করা হয়েছে। সেগুলো হলো— অ্যাসোসিও ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও ইএসজি অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও গ্লোবাল বিজনেস সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও এআই ইন সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও এআই ফর পাবলিক গুড অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও এআই ইন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও এআই ইন হেলথকেয়ার অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও এআই ইন স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও এআই ইন ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসোসিও এআই ইন ওয়ার্কফোর্স অ্যান্ড ফিউচার স্কিলস অ্যাওয়ার্ড এবং অ্যাসোসিও এআই ইন ম্যানুফ্যাকচারিং/সাপ্লাই চেইন অ্যাওয়ার্ড।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিও সামিট ২০২৬ সফলভাবে আয়োজনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সাংগঠনিক অবদানের জন্য থাই আইসিটি শিল্প সংস্থাকে (এটিসিআই) ‘অ্যাসোসিও স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ এবং সামিট আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার আইসিটি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনকে ‘অ্যাসোসিও এক্সট্রাঅর্ডিনারি মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। একই সাথে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রযুক্তি বিকাশ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরে অসামান্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষস্থানীয় চার মন্ত্রীকে ‘অ্যাসোসিও অনারারি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ দেওয়া হয়। এই চার মন্ত্রী হলেন— এইচ অগাস হরি মূর্তি ইউধোয়নো (সমন্বয়কারী মন্ত্রী, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক উন্নয়ন), রোসান পারকাসা রোয়েসলানি (বিনিয়োগ ও শিল্প উন্নয়ন মন্ত্রী), এইচ তেউকু রিফকি হারস্যা (সৃজনশীর অর্থমন্ত্রী) এবং ইর এরলাঙ্গা হারতার্তো (অর্থনৈতিক বিষয়াবলি–সম্পর্কিত সমন্বয়কারী মন্ত্রী)।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার থেকে জাকার্তায় অ্যাসোসিওর তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন ‘অ্যাসোসিও ডিজিটাল অ্যান্ড এআই সামিট ২০২৬’ শুরু হয়েছে। এই সম্মেলনে মোট ২৭টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে এবং আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে।