অতিরিক্ত সময়ের মাত্র চার মিনিট বাকি থাকতে এলকান ব্যাগটের গোলে সমতা ফেরায় ইন্দোনেশিয়া। এরপর টাইব্রেকারে শেষ বাধা হয়ে দাঁড়ালেন গোলরক্ষক এমিল অদেরো। দশজনের থাইল্যান্ডের সামনে পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথম ফিফা আসিয়ান কাপের শিরোপা জয় করল স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।

সোমবার (৫ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ লড়াই ১২০ মিনিট শেষে ২-২ সমতায় শেষ হয়। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের পর টাইব্রেকারে থাইল্যান্ডকে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত করে আসিয়ান কাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণভাগই তেমন কার্যকর ছিল না, ফলে কোনো গোল আসেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৮১ মিনিটে ওলে রোমেনিকে ফাউল করার অপরাধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান থাইল্যান্ডের নিকোলাস মিকেলসন। ফলে মাঠের লড়াইয়ে দশজনের দলে পরিণত হয় থাইল্যান্ড।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিন মিনিট পরেই লিড নেয় ইন্দোনেশিয়া। ডিন জেমসের নেওয়া একটি ফ্রিকিক থাই খেলোয়াড় ইখলাস সানরনের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। তবে স্বাগতিকদের এই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র তিন মিনিট। ৮৭ মিনিটে সেকসান রাত্রির নিখুঁত ক্রস থেকে ভলি শটে সমতায় ফেরান সেই ইখলাসই। ফলে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়।

দশজনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত সময়ে উল্টো এগিয়ে যায় থাইল্যান্ড। ১১১ মিনিটে একটি পাল্টা আক্রমণ থেকে পিরাদল চামরাসামি গোল করে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন।

ম্যাচে পুনরায় ফেরার লড়াইয়ে নেমে ১১৬ মিনিটে গোল করেন ব্যাগট। তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে। এই গোলের ফলে শিরোপা নির্ধারণের লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে নিজেদের প্রথম চারটি শটেই গোল করতে সক্ষম হয় ইন্দোনেশিয়া। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের তৃতীয় শটে সারাচ ইয়ুয়েনের বল পোস্টে লাগে। এরপর নাত্তাপং সাইরিয়ার চতুর্থ শটটি ঠেকিয়ে স্বাগতিকদের শিরোপা নিশ্চিত করেন গোলরক্ষক অদেরো।

উল্লেখ্য, গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ৯-২ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছিল ইন্দোনেশিয়া। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থানটি দখল করেছে মালয়েশিয়া। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভিয়েতনামকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা।