লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় এই জিডিটি দায়ের করেন গণতান্ত্রিক যুবদল এবং এলডিপির ময়মনসিংহ জেলা শাখার নেতা মো. সোহাগ তালুকদার।

জিডিতে কিশোরগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম জাহানের বিরুদ্ধে কর্নেল অলি আহমদকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ৫ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলম জাহান তার ফেসবুক আইডি থেকে কর্নেল অলি আহমদের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হত্যার হুমকিসংবলিত মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

জিডি দাতার পরিচয় প্রসঙ্গে সোহাগ তালুকদার নিজেকে গণতান্ত্রিক যুবদলের আহ্বায়ক এবং এলডিপির ময়মনসিংহ জেলা শাখার যুববিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কর্নেল অলি আহমদের অনুসারী হিসেবে ওই হুমকির ঘটনায় তিনি এবং দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে জাহাঙ্গীর আলম জাহান তার কিংবা দলের নেতাকর্মীদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম জাহানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সংবাদগুলোতে বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর তার ফেসবুক আইডি থেকে কর্নেল অলি আহমদকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম জাহান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রায়ই রাজনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়।

জিডিতে উল্লিখিত অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সোহাগ তালুকদার।

এই অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম জাহানের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের সরকারি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীমা হাসান। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।