দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে আগাম শীতকালীন শিম চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। শীত মৌসুম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হওয়ার আগেই বাজারে শিম সরবরাহ করে ভালো মূল্য পেয়েছেন তারা, যা কৃষকদের মুখে এনেছে তৃপ্তির হাসি। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যার কারণে শিমের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামে এই সাফল্যের চিত্র স্পষ্ট। বর্তমানে এই গ্রামের অধিকাংশ কৃষিজমি আগাম শীতকালীন শাক-সবজির আবাদে ব্যবহৃত হচ্ছে। গ্রামের কৃষক মুক্তার আলী তার দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ করেছেন। তিনি জানান, গত এক মাস ধরে নিয়মিতভাবে ক্ষেতের শিম বাজারে বিক্রি করছেন তিনি। তার পাশাপাশি গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই এখন শীতকালীন শিমসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠের লতানো শিম গাছগুলো ফুলে এবং থোকায় থোকায় শিমে ভরে আছে। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা শিম সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। শিম সংগ্রহের পাশাপাশি এই গ্রামের কৃষকেরা এখন আগাম জাতের আলু আবাদের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেছেন।

কৃষকদের দাবি, অন্যান্য ফসলের তুলনায় আগাম শিম চাষে উৎপাদন খরচ অনেক কম হলেও মুনাফা অনেক বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পোকা-মাকড়ের আক্রমণও তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ফলে চাষের শুরুর দিকে তারা প্রতি কেজি শিমের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় দাম পেয়েছেন।

শিমচাষি মুক্তার আলী বলেন, “আমি ২ বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম আবাদ করেছি। গত এক মাস ধরে শিম তুলে বাজারে বিক্রি করছি। প্রথম দিনে ২০০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করেছি। তবে এখন দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। শীতের আগেই আগাম শিম আবাদ করে আমি বেশ লাভবান হয়েছি।”

অন্যদিকে কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকায় সব সময় আগাম শীতকালীন শাক-সবজি আবাদ করা হয়। এই সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। পাশাপাশি আগাম শাক-সবজির দামও ভালো পাওয়া যায়। আমন ধান কাটার পর সেই জমিতে এখন আগাম জাতের আলু রোপণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এই উপজেলার মোট ২৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মোট ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, “আগাম জাতের সবজি চাষে ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের মানসম্মত বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সার ও কীটনাশকের সুষম প্রয়োগ সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরে আগামী দিনগুলোতে আগাম শিমসহ অন্যান্য সবজি চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।”