দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার দশমাইলে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলার হাট চলতি মৌসুমে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার কলার দাম কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। সূত্রমতে, এই মৌসুমে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কলা কেনাবেচা হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর জেলায় উৎপাদিত সাগর কলার খ্যাতি সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। এছাড়াও শবরি, মালভোগ এবং চিনি চম্পাসহ বিভিন্ন জাতের কলা চাষ করা হয়। কাহারোল উপজেলার দশমাইল মোড়ে গড়ে ওঠা এই বাজারে নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার চাষিরা তাদের ফসল নিয়ে আসেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এই হাটে কলা কিনতে আসেন। বড় পরিসরের এই কলার হাটকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন কয়েকশ শ্রমিক কলা বাছাই, পরিবহন ও ট্রাকে লোড-আনলোডের কাজ করে আয় করছেন।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ভ্যান, নসিমন, ইজিবাইক ও পিকআপে করে চাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কলা নিয়ে আসেন। কেনাবেচা শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ট্রাকে কলা লোড হয়ে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

কলাচাষি আশরাফুল বলেন, "গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম কমে গেছে। গত বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় কলা বিক্রি করেছি, সেই কলা এবার ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।" অপর চাষি সহিদুল ইসলাম জানান, "গতবারের তুলনায় এবার কলার আবাদ বেশি হয়েছে। অনেক চাষি কলা আবাদ করেছে। বাজারে কলা বেশি ওঠার কারণে দাম কমে গেছে।"

ঢাকা থেকে আগত কলা ব্যবসায়ী তালুকদার হোসেন বলেন, "ভালো মানের কলার দাম তুলনামূলক বেশি। আমি প্রতিদিন এই হাট থেকে ৩ থেকে ৪ ট্রাক কলা কিনে ঢাকায় পাঠাচ্ছি। তবে ঢাকায় কলার চাহিদা কম হওয়ায় বিক্রিও কম হচ্ছে। এই কারণে দশমাইলের হাটেও কলার দাম কমে গেছে।"

ফেনীর কলা ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দীন এ হাট থেকে নিয়মিত পাইকারি কলা কেনেন। তিনি বলেন, "এক মাস আগে কলার দাম আরও বেশি ছিল। এখন দশমাইল কলার হাটে কলার জোগান বেশি হওয়ায় আগের তুলনায় একটু দাম কমেছে।"

দশমাইল কলার হাটের ইজারাদার শামিম জানান, "মৌসুমে প্রতিদিন এক কোটি টাকার ওপরে কলা বিক্রি হয়। প্রতিদিন গড়ে ২০ ট্রাক লোড হয়। মৌসুমে এ হাটে লোড-আনলোডের কাজ করেন অন্তত ১০০ শ্রমিক। এ ছাড়া কিছু ব্যবসায়ী সরাসরি ক্ষেত থেকে কলা কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যান।"

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর খরিপ-১ ও রবি মৌসুমে জেলায় কলার আবাদ হয়েছে ১ হাজার ২৫৯ হেক্টর জমিতে। দশমাইলের কলার হাটে ৪ মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কলা কেনাবেচা হবে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "দশমাইলের কলার হাট থেকে প্রতিদিন বহু গাড়ি বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। গত বছর চাষিরা কলার দাম ভালো পেয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর কলার দাম একটু কম আছে। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে কলার দামও বাড়বে।"