জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে জনতার গণপিটুনিতে প্রাণ হারানো চাঁদপুরের আলোচিত সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম খান এবং তাঁর পুত্র চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের বিশেষ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে দাফনের ২৬ মাস পর আজ বুধবার দুপুরে তাঁদের লাশ উত্তোলন করা হয়।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে তাঁদের নিজ বাড়ির কবরস্থানে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়। প্রথমে শান্ত খানের মরদেহ এবং এর কিছু সময় পর সেলিম খানের লাশ কবর থেকে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়ার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
সেলিম খান সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান 'শাপলা মিডিয়ার' স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর ছেলে শান্ত খান বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে শত শত ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছিলেন সেলিম খান। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তাঁর নাম সামনে আসে। এই সব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে তিনি ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলা ছাড়াও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা চলমান ছিল। এসব আইনি জটিলতার কারণে তিনি জেলও খেটেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেই সময় জনতার পিটুনিতে তাঁদের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি আদালত তাঁদের লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।