কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিন দ্বীপে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর শারীরিক জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ জন শিশু। চিকিৎসকদের মতে, এদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা বেশ গুরুতর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দ্বীপের ‘সেন্ট মার্টিন অবকাশ’ নামক একটি রিসোর্টে মোট ২১০ জন শিশু ও কিশোরের খতনা করানো হয়। যাদের বয়স ছিল ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এই পুরো কর্মসূচির উদ্যোক্তা ছিল ‘আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন। তবে খতনার দুই দিন পর, গত মঙ্গলবার থেকে শিশুরা অসুস্থ হতে শুরু করে। অনেক শিশুর ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, “মঙ্গলবার ৫০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের কয়েকজনের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ ছিল।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুজনকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম এই ঘটনার বিষয়ে বলেন, “২১০ শিশুর খতনা করা হয়েছিল। দুই দিন পর কিছু শিশু বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে যায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী খতনার পর অনেকের ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও পুঁজ জমেছে এবং পরবর্তীতে কারও কারও রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখতে আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক নওশাদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুপুর নাগাদ তারা দ্বীপে পৌঁছে শিশুদের চিকিৎসা প্রদান এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, খতনা কর্মসূচির বিষয়ে তাঁদের আগে থেকে কোনো আগাম বার্তা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “এ কর্মসূচির ৫০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তবে মূলত দুজনের ইনফেকশন হয়েছিল। তাদেরও দ্বীপে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদের সমস্যাগুলো স্বাভাবিক ধরনের। খতনার পর এ ধরনের কিছু সমস্যা হতে পারে।” তিনি আরও জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মেডিক্যাল টিমের প্রতিবেদনে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, খতনা কর্মসূচির বিষয়ে জানতে ‘আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের’ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের মুঠোফোনে কল করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি, ফলে এই বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।