টেকনাফের ‘সাবরাং টুরিজম পার্ক’-কে বিশ্বমানের পর্যটন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এই কেন্দ্রে একটি আধুনিক জেটি নির্মাণ করা হবে, যা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াত সহজ করবে। এছাড়া মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজারের যোগাযোগব্যবস্থাও উন্নয়ন করা হবে এবং কয়েক বছরের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে কক্সবাজার থেকে সড়কপথে টেকনাফের সাবরাং টুরিজম পার্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। এরপর তাঁর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পার্কের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার সাংবাদিকদের এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মুখ্য সচিব বলেন, "দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে টেকনাফের ‘সাবরাং টুরিজম পার্ককে’ বিশ্বমানের পর্যটন হাব করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।" তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটন হাব গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বেজা ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তিনি টেকনাফ পরিদর্শনে এসেছেন।
পার্কের কাজ শেষ হলে স্থানীয় হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, "টেকনাফে যেসব হোটেল, মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠবে, সেগুলোতে স্থানীয় মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী স্থানীয়দের চাকরির সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে।"
মুখ্য সচিব বলেন, "মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তে সাবরাং এলাকায় প্রায় এক হাজার একর জমি নিয়ে পর্যটন পার্কের পরিকল্পনা ছিল। তবে আগের সরকার সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় পার্কের জন্য রাখা প্রায় ৫০০ একর জমি ইতিমধ্যে সমুদ্রের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ একর জমি রয়েছে। ওই জমিকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে পর্যটন উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
এ বি এম আবদুস সাত্তার বলেন, "টেকনাফ থেকে কক্সবাজারে দ্রুত যাতায়াতের ব্যবস্থা করার বিষয়েও কাজ করা হবে। পাশাপাশি টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার শহর থেকে পর্যটকদের সেন্ট মার্টিন যেতে ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগে, সাবরাং পার্কে একটি জেটি নির্মাণ হলে সময় লাগবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।"
মুখ্য সচিব বলেন, "বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই জেটি নির্মাণ করবে। ইতিমধ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই বছরের মধ্যে জেটির কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেটি নির্মাণ হলে বড় লঞ্চ ও জাহাজ টেকনাফে আসতে পারবে এবং সেন্ট মার্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।"