আইটি কনসালট্যান্টসের (আইটিসি) নেটওয়ার্কভিত্তিক পেমেন্ট সুইচ ‘কিউ-ক্যাশ’–এর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিজিটাল লেনদেনে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর গ্রাহকেরা। তবে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আইটি কনসালট্যান্টস (আইটিসি) পরিচালিত কিউ–ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও এনপিএসবি সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল লেনদেন সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকেরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ইতিমধ্যে কিউ–ক্যাশের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে। শিগগিরই সুইচিং কার্ড–সংশ্লিষ্ট সব সেবা আবার চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও স্পষ্ট করেছে যে, এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক পরিশোধব্যবস্থার কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত রোববার রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলার কথা। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত অন্তত ৩০টি ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক লেনদেনসহ ডিজিটাল পরিষেবাগুলো মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমনকি কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক লেনদেন সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের ৩০টি ব্যাংক তাদের এটিএম সেবার জন্য কিউ–ক্যাশের সুইচ ব্যবহার করে থাকে। তবে যেসব ব্যাংকের কিউ–ক্যাশের পাশাপাশি নিজস্ব সুইচিং ব্যবস্থা রয়েছে, তারা বর্তমান পরিস্থিতিতেও কার্ডভিত্তিক লেনদেন সেবা চালু রাখতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু যাদের নিজস্ব সুইচিং বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই, তাদের এটিএমসহ কার্ডভিত্তিক সব ধরনের লেনদেন সেবা বর্তমানে বন্ধ। এর ফলে ওই ব্যাংকগুলোর কার্ডধারীরা এটিএম থেকে টাকা তোলা, অর্থ স্থানান্তর, ই-কমার্স লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো পাচ্ছেন না। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসা বেতনের টাকা কার্ডের মাধ্যমে তুলতে পারছেন না বলে জানা গেছে।