রাজধানীর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো পালিয়ে গেলেন হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম। এর আগে একবার পালানোর ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার তাঁকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হলে তিনি পুনরায় আদালত কক্ষ থেকে পালিয়ে যান।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শরিফুল ‘কৌশলে’ আদালত কক্ষ থেকে পালিয়ে যান বলে মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল।

পুলিশের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, কোতোয়ালী থানার মামলায় আসামি শরিফুলকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তবে আদালত কক্ষে থাকাকালীন তিনি কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান। উল্লেখ্য, তিনি এর আগে একবার ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়েছিলেন। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে করা মামলায় আজ তাঁকে যখন কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়, তখনই তিনি পুনরায় পালিয়ে যান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে আজ এই মামলার শুনানি নির্ধারিত ছিল। আসামি শরিফুলের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন কনস্টেবল আব্দুল আলিম।

ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় তদন্ত হবে। মামলা হবে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

আদালত ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, আসামি শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুরে এবং তাঁর বাবার নাম শফিক আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।

খিলগাঁও থানার সেই হত্যা মামলায় শরিফুল কারাগারে বন্দী ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ জুন ওই মামলায় তাঁকে কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছিল। সেদিন তিনি পুলিশের এক সদস্যকে কামড় দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছিল, ২০১৮ সালে শরিফুলের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘ ছয় বছর কারাগারে ছিলেন।