প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাওয়া প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিজএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) তাদের দীর্ঘ পথচলার ৩০ বছর পূর্ণ করল। এই বিশেষ মাইলফলক উদযাপনে প্রতিষ্ঠানটি একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সোমবার সাভারের ব্র্যাক সিডিএম প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সিডিডির বিভিন্ন প্রকল্পের সাথে যুক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা, দাতা সংস্থাসহ বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং নেতৃত্বের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সিডিডি। যেই লক্ষ্য নিয়ে সিডিডি যাত্রা শুরু করেছিলো সে পথে অনেক দূর এগুলেও এখনও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারে আদায়ে, তাদেরকে নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে আসতে অনেকটা পথ হাটা বাকি।” তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার এই দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টায় সরকারসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রতিষ্ঠানের সুদীর্ঘ তিন দশকের যাত্রার বিভিন্ন পর্যায় ও খণ্ডচিত্র তুলে ধরেন সিডিডির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক এবং নির্বাহী উপদেষ্টা এ এইচ এম নোমান খান। এই বিশেষ মুহূর্তে সিডিডির ৩০ বছরের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্মরণিকা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। এরপর কেক কাটার মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করা হয় এবং পরিবেশিত হয় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী পটের গান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা, সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিকরণের বাস্তব প্রভাব ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক জনাব এ কে এম তারেক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সিডিডি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাদের কাছে শহুরে সুযোগ-সুবিধা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে সিডিডির মতো সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থার যৌথ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সবশেষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ অন্যান্যদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
এর আগে, ওইদিন সকালে সেন্টার ফর ডিজএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) ‘কমিউনিটি বেইজড রিহ্যাবিলিটেশন (সিবিআর) সামিট ২০২৬’ আয়োজন করে। এই সম্মেলনে কয়েকশ প্রতিবন্ধী শিশু, যুবক এবং তাদের অভিভাবকেরা অংশ নেন। সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সামাজিক অংশগ্রহণ, ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।