ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করার পর সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন এই কমিটিতে কারা স্থান পাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে। বিশেষ করে ১১ জন নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি পদের জন্য ছয়জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য পাঁচজন নেতার ব্যাপারে তাদের অনুসারীরা অত্যন্ত আশাবাদী।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার, পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই উত্তেজনার মাঝে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের সংশ্লিষ্টতার কথা সামনে আসে। এর পাশাপাশি রাতের অন্ধকারে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দুর্বৃত্তদের দ্বারা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এই দুটি ঘটনার পর পল্লবী, মিরপুর ও দারুস সালাম এলাকায় বিএনপি ও যুবদলের নাম ব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসা, জবরদখল এবং চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগগুলো পুনরায় সামনে আসে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সভাপতি পদের জন্য ছয়জনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ। এছাড়া ঢাকা উত্তর যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজের নামও আলোচনায় এসেছে। সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটুর ব্যাপারেও তার অনুসারীরা আশাবাদী।
সভাপতি পদের দৌড়ে আরও রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জসিম শিকদার রানা। এছাড়া ঢাকা উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন এবং সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক তসলিম আহসান মাসুমের নামও আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতি পদপ্রত্যাশী মিজানুর রহমান রাজ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সবসময় রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। আন্দোলন করতে গিয়ে আমার ও আমার পরিবারের ওপর বহু নির্যাতন হয়েছে। বহুবার গ্রেফতার হয়েছি, তবুও রাজপথ ছাড়িনি। দল নিশ্চয়ই আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।’
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা উত্তর যুবদলের দুই সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম ও শিমুল আহমেদ। ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং গুম ফেরত নেতা বাছিরুল ইসলাম রানার নামও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া রামপুরা থানা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল আহমেদ দুলু এবং ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েলের ব্যাপারে তাদের অনুসারীরা আশাবাদী।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী বাছিরুল ইসলাম রানা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি আমাকে যেখানে যোগ্য মনে করবেন, সেখানেই দায়িত্ব দেবেন। কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। উপযুক্ত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
পুরো বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু ঢাকা মহানগর নয়, দেশের সব জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে আমরা ভাবছি। রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনে আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে।’
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল এবং সদস্য সচিব ছিলেন সাজ্জাদুল মিরাজ।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, এবার সংগঠন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে মাঠের ত্যাগী, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের মূল্যায়ন করা হোক। তাদের মতে, নতুন কমিটিতে সেইসব নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত যারা বিগত সময়ে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। বিএনপি এখন সরকার পরিচালনা করছে। তাই জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বেড়েছে। যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে। ত্যাগী ও রাজপথে পরীক্ষিত নেতারা এসব কমিটিতে স্থান পাবেন।’