দুর্নীতির সাথে কোনো সাব-রেজিস্ট্রারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে আর ঢাকায় রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর নির্ধারিত পদে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি কার্যক্রমের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন স্থানের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতেই লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “একই সঙ্গে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত জায়গাগুলোতে থাকা সিন্ডিকেট ভাঙতে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করা হবে।”
সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে কথা বলেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার পদে বদলি ও পদায়ন নিয়ে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক পারসেপশন রয়েছে। রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে কোনো না কোনো জায়গা থেকে পরিবর্তনের কাজ শুরু করতে হবে। সেই কাজ আজ শুরু হলো।”
রাজধানীর পোস্টিং নিয়ে প্রচলিত ধারণার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “ঢাকায় পোস্টিংকে ‘প্রাইস পোস্টিং’ হিসেবে ধরা হয়। সাধারণভাবে মনে করা হয়, যাদের ঢাকায় পোস্টিং দেয়া হয়, তারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ‘প্রাইস পোস্টিংয়ের’ মধ্যেই প্রথম লটারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।”
আইনমন্ত্রী জানান, সারাদেশে এই ক্যাটাগরির মোট সাব-রেজিস্ট্রার পদ রয়েছে ১৩১টি, যার মধ্যে ঢাকার পদগুলোও অন্তর্ভুক্ত। লটারির মাধ্যমে ঢাকার জন্য ১৮ জন সাব-রেজিস্ট্রারের পোস্টিং নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের পদায়ন সম্পন্ন হবে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে সবচেয়ে দক্ষদের ঢাকায় নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এই লটারি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। ধীরে ধীরে সব জায়গায় সমস্যার সমাধানের পথ বের করা হবে।”
পদায়নের প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লটারির পর সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। এরপর কার দক্ষতা কতটুকু এবং কে কতটুকু কাজের চাপ সামলাতে পারবেন, সেই বিচার-বিবেচনা করে পোস্টিং দেওয়া হবে। তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, “কোনো সাব-রেজিস্ট্রার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে ঢাকায় রাখা হবে না।”
দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙার লক্ষ্যে এই বদলি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “কোনো সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়া গেলে কাউকে হয়রানি করা হবে না। আবার অভিযোগ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড়ও দেওয়া হবে না।”
অনুষ্ঠানে সাব-রেজিস্ট্রার সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মাসোহারা চাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সংগঠনের দাবি, মাসোহারা না দিলে কিছু সাংবাদিক প্রতিবেদন প্রকাশের হুমকি দেন। তবে এই অভিযোগের সপক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।
দুর্নীতি দমনে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দুর্নীতি রোধ করতে হলে সবার মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।”
সবশেষে তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে মোট ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত আছেন, যেখানে ১৩৯টি পদ এখনো শূন্য রয়েছে।