পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান নাম অপরিবর্তিত রেখে তা ‘পশ্চিমবঙ্গই’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের নাম বাংলা কিংবা ওয়েস্ট বেঙ্গল হবে না, বরং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ হিসেবেই গণ্য হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে রাজ্য বিধানসভার আগামী অধিবেশনে একটি বিশেষ বিল উত্থাপন করা হবে।
গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, রাজ্যের নাম আর বাংলা বা ওয়েস্ট বেঙ্গল থাকবে না; এর পরিবর্তে নাম হবে পশ্চিমবঙ্গ।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রাজ্য বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাস করে রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার আবেদন জানানো হয়েছিল এবং তা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি। তৃণমূল সরকারের সময়ে এই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি ফাইলবন্দী হয়ে পড়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি অমীমাংসিত থাকার পর গতকাল সল্টলেকের দলীয় দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য জানান, রাজ্যের নাম হবে পশ্চিমবঙ্গ। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলা বা ওয়েস্ট বেঙ্গল নাম দুটি ব্যবহৃত হবে না।
এই প্রস্তাবটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনে একটি বিল পেশ করা হবে। বিধানসভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হলে তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সম্মতির পর এটি আইনে পরিণত হবে।
গত আগস্ট মাসে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার নাম পরিবর্তিত হয়ে ‘কেরলম’ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শমীক ভট্টাচার্য আজ বলেন, “বাংলা নয়, পশ্চিম বাংলা নয়, বেঙ্গল নয়, বঙ্গাল নয় কিংবা ওয়েস্ট বেঙ্গলও নয়—এই রাজ্যের নাম হবে পশ্চিমবঙ্গ।”
শমীক ভট্টাচার্যের দেওয়া যুক্তি অনুযায়ী, ইংরেজিতে নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের ডাক পড়ে একেবারে শেষের দিকে। কারণ, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ শব্দের প্রথম অক্ষর ‘ডব্লিউ’ (W), যা ইংরেজি বর্ণমালার একদম শেষের দিকে অবস্থিত। তাই তিনি প্রস্তাব করেন যে, রাজ্যের নাম বাংলায় যেমন পশ্চিমবঙ্গ হবে, ইংরেজিতেও তা ‘পশ্চিমবঙ্গ’ হিসেবেই লেখা হবে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই রাজ্য বিধানসভায় একটি প্রস্তাব এসেছিল যে, সব ভাষাতেই রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ করা হোক। তবে পরবর্তীতে আলোচনার পর পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তে ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হয়নি।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার ক্ষমতায় আসার পর নাম পরিবর্তনের বিষয়টি পুনরায় সামনে আসে। ২০১৬ সালের ২ আগস্ট রাজ্য মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে রাজ্যের নাম তিন ভাষায় তিন রকম হবে—বাংলায় ‘বাংলা’, ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’।