সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল একটি মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। তবে একটি পক্ষের তীব্র আপত্তির মুখে আয়োজকেরা শেষ পর্যন্ত খেলাটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।
আয়োজক সংগঠন স্বপ্নচূড়া স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া মুক্তকণ্ঠকে জানান, আজ বিকেল সাড়ে চারটায় দিরাই স্টেডিয়ামে সিলেটের জারা স্পোটিং ক্লাবের মেয়েদের সঙ্গে স্বপ্নচূড়া স্পোটিং ক্লাবের মেয়েদের এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তিনি আরও জানান, এই আয়োজনের বিষয়ে তিনি পাঁচ দিন আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেছিলেন।
রাকিব আহমেদ ভূঁইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববারই সিলেটের দলের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়েরা দিরাইতে এসে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু রাতে তিনি জানতে পারেন, কিছু লোক ইউএনও অফিসে গিয়ে এই ফুটবল খেলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁরা ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি জানার পর তিনি ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আজ সকালে ইউএনও তাঁকে জানান, যেহেতু দুটি পক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলাটি আয়োজন করতে হবে, অন্যথায় খেলা স্থগিত করতে হবে।
জানা গেছে, গতকাল রাতে ইউএনও সনজীব সরকারের সঙ্গে দেখা করে খেলার নামে ‘অশ্লীলতা’ বন্ধের দাবি জানান দিরাই পৌর এলাকার চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা মাওলান শরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন। ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হয়ে তাঁরা এই বিষয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেন। আজ সকালে পুনরায় ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে তাঁরা খেলা বন্ধের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে শরিফ উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “তাঁরা আগে শুনেছিলেন কিশোরীরা ফুটবল খেলবে। এখন মাইকিং করে বলা হচ্ছে, মহিলাদের ফুটবল খেলা। দিরাইয়ে এর আগে এভাবে মহিলাদের কোনো ফুটবল খেলা হয়নি।”
নিজেকে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে শরিফ উদ্দিন বলেন, “মহিলাদের নিয়ে মাঠে নাচানাচি, অশ্লীলতা হবে ; এটা আমরা মানতে পারি না।” ২০১৯ সাল থেকে এই মাঠে মেয়েদের ফুটবল খেলা হয়ে আসছে—এই তথ্যটি জানালে তিনি বলেন, “এর আগে আমার দেখিনি। আমরা খেলাধূলার বিরোধী নই, আমরা অশ্লীলতার বিরোধী।”
আয়োজক রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া দাবি করেন, আজ দুপুরে তিনি পুলিশের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেন। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে খেলা স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলে বাধ্য হয়েই তিনি খেলাটি স্থগিত করেন।
আয়োজক আরও জানান, স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবটি ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে এবং এলাকার কিশোরীদের নিয়েই এই দল গঠিত। ২০১৯ সালে এই ক্লাবের আমন্ত্রণে দেশের সাতটি জেলার মেয়েদের সাতটি ফুটবল দল দিরাইয়ে এসে খেলেছে। এছাড়া স্বপ্নচূড়ার মেয়েরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে খেলেছে এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এখন হঠাৎ করে খেলায় বাধা আসায় তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত।
এই বিষয়ে দিরাইয়ের ইউএনও সনজীব সরকার বলেন, চার থেকে পাঁচ দিন আগে রাকিব আহমেদ নামের একজন এসে বলেছিলেন, মাঠে কিশোরীরা ফুটবল খেলবে। এখন শুনছেন খেলার জন্য নাকি কার কাছ থেকে স্পন্সর নেওয়া হয়েছে, এ নিয়ে কিছু ঝামেলা আছে। একটি পক্ষ নারীদের এই খেলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যেহেতু দুই পক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলতে বলা হয়েছিল। এখন আয়োজকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেরাই খেলাটি স্থগিত করেছেন।