যশোরের চৌগাছা উপজেলায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোরে চৌগাছার বাঘারদাড়ি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল আটটার দিকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বলে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাঘারদাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলীর বাড়িতে তিনজন চোর প্রবেশ করে। তারা গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করার সময় বিষয়টি টের পান ইদ্রিস আলী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের সতর্ক করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত জড়ো হয়ে চোরদের ধাওয়া করতে শুরু করেন।
তাৎক্ষণিক ধাওয়া করার সময় চোরদের মধ্যে দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একজনকে স্থানীয় লোকজন ধরে ফেলেন। এরপরই উত্তেজিত জনতা ওই ব্যক্তিকে ধরে গণপিটুনি দেয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে চৌগাছা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল আটটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির সুরতহাল সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা ও মামলা দায়ের করা হবে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহযোগিতায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নিহত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় মামলা করা হবে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহায়তায় তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”