যশোরের চৌগাছা উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মিজানুর রহমান মূলত কুষ্টিয়ার বাটকেমারি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে এবং পুলিশি তথ্যানুসারে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাঘারদাড়ি গ্রামের সেকেন্দার আলীর পুত্র ইদ্রিস আলীর বাড়িতে তিন সদস্যের একটি চোরচক্র প্রবেশ করে। তারা যখন গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ির মালিক ইদ্রিস আলী বিষয়টি টের পান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং চোরদের ধাওয়া করতে শুরু করেন। ধাওয়া করার একপর্যায়ে দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও স্থানীয়রা মিজানুর রহমানকে ধরে ফেলেন। এরপরই বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে গণপিটুনিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার বিষয়ে গরুর মালিক ইদ্রিস আলী বলেন, “প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বাইরে বের হয়ে তিনি গোয়ালঘরে তিনজনকে তালা ভাঙতে দেখেন। ডাক-চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে ধাওয়া করে একজনকে ধরে ফেলেন। বাকি দুজন পালিয়ে যান।” তিনি আরও দাবি করেন যে, এক বছর আগেও তার গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়েছিল।
খবর পাওয়ার পরপরই চৌগাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষু অবস্থায় মিজানুর রহমানকে উদ্ধার করে। তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেজা উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, অতিরিক্ত আঘাতের কারণে শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
ওসি আরও জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ একজনকে হেফাজতে নিয়েছে। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।