জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে আকস্মিক প্রস্থানের পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল অধ্যায় কি তবে শেষ হয়ে গেল? ফুটবল বিশ্বে এই প্রশ্নটি জোরালো হয়ে উঠলেও আপাতত তেমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। দলের কোচ জর্জ জেসুস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ৪১ বছর বয়সী এই অধিনায়ক চাইলে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরতে পারেন। একই সুর শোনা গেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সার কণ্ঠেও।
নেশন্স লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় অর্জনের পর জেসুস জানান, পরবর্তী দল নির্বাচনে রোনালদোর অন্তর্ভুক্তি বা অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত মূলত তার নিজের হাতেই ন্যস্ত।
কোচ জেসুসের ভাষায়, ‘সে চাইলে জাতীয় দলে ফিরবে। পরবর্তী দল ঘোষণার আগে আমরা কথা বলতে পারি, কিন্তু সিদ্ধান্তটা ক্রিসকেই নিতে হবে।’
রোনালদোর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়েও স্বচ্ছ ধারণা দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমবার দল নির্বাচনের সময় রোনালদোকে যে বার্তা দিয়েছিলেন, সেই অবস্থানে এখনও অটল তিনি।
জেসুস বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের সময়টা কীভাবে শেষ করতে চায়, সেটি তারই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। প্রথমবার দল ঘোষণার সময় আমি বলেছিলাম, “তোমাকে আমার প্রয়োজন। তুমি খেলো বা না খেলো, আমার পাশে তোমাকে প্রয়োজন।” এখনও আমি একই কথা বলছি।’
রোনালদোকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয় নরওয়ের বিপক্ষে পূর্ববর্তী ম্যাচে। ওই ম্যাচে পুরো সময় ধরে বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাকে। পরবর্তীতে জানা যায়, ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি শুরুর একাদশে থাকছেন না। এই পরিস্থিতির পর পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো লিখেছিলেন, জাতীয় দল ছাড়ার প্রকৃত কারণ ‘সময় হলে’ তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন।
তবে ফেডারেশন সভাপতি প্রোয়েন্সা এই ঘটনাটিকে স্থায়ী সম্পর্কের অবনতি হিসেবে দেখছেন না। তার দৃষ্টিতে, পুরো বিষয়টি ছিল একটি ভুল বোঝাবুঝি, যার সমাধান দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
আরটিপিকে প্রোয়েন্সা বলেন, ‘সে খেলোয়াড়ি যোগ্যতার কারণেই জাতীয় দলে আছে, এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আমাদের সম্মান জানাতে হবে।’
রোনালদোর অনুপস্থিতিতেও এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে সফল হয়েছে বর্তমান নেশন্স লিগ চ্যাম্পিয়নরা। ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে এবং নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে গ্রুপ ‘এ’-এর ৪ নম্বর গ্রুপে শতভাগ জয়ের রেকর্ড বজায় রেখেছে পর্তুগাল। এর মাধ্যমে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটও নিশ্চিত করেছে।
তা সত্ত্বেও, পর্তুগালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলারকে এখনই পরিকল্পনার বাইরে রাখার কথা ভাবছেন না জেসুস।
নভেম্বরে পর্তুগালের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো নির্ধারিত। ১৪ নভেম্বর তারা ঘরের মাঠে ডেনমার্কের মুখোমুখি হবে এবং তার তিন দিন পর ওয়েলসের মাঠে খেলতে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, তার আগেই রোনালদো এবং পর্তুগাল শিবিরের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে।