আশ্বিন মাস শুরু হতেই শরৎকালের চিরচেনা রূপ ধারণ করেছে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীবেষ্টিত এই জেলার চরাঞ্চলসহ পথে-প্রান্তে এখন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফুটেছে থোকা থোকা কাশফুল। চারপাশের পরিবেশ এখন সাদা মেঘ আর কাশফুলের শুভ্রতায় মোহময় হয়ে উঠেছে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং স্মৃতিময় ছবি তুলতে প্রতিদিন শত শত ফুলপ্রেমী ছুটে আসছেন এখানে।

গাইবান্ধায় নির্দিষ্ট কোনো পর্যটন কেন্দ্র বা ভ্রমণ স্পট না থাকায় ভ্রমণপিপাসুরা মূলত ফুলছড়ি ও বালাসী ঘাটে ভিড় জমাচ্ছেন। শুধু সাধারণ পর্যটকই নন, এই কাশবনে এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও ব্যাপক আনাগোনা দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতে মোবাইল ফোন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে অনেকেই ছুটছেন ফুলছড়ি ঘাটের দিকে। তাদের মূল লক্ষ্য নদীর তীরের কাশবনে গিয়ে সুন্দর সুন্দর ছবি তোলা। কনটেন্ট ক্রিয়েটররাও এসব কাশবনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে তারা এখানে আসছেন ভিডিও ধারণ করতে। কেউ কেউ টিকটক ও রিলস তৈরিতে মগ্ন হয়ে আছেন।

সাঘাটার বোনারপাড়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি আমার স্বামী ও তিন বোনকে নিয়ে ফুলছড়ির চরে আসছি। এখানে কাশফুল দেখে আমি মুগ্ধ। আমি সবাইকে নিয়ে ছবি তুলেছি। অনেক আনন্দ পেয়েছি।’

অন্যদিকে, সাঘাটার কচুয়া ইউনিয়ন থেকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি ঘাটের ঘুড়িতে আসা সোহান সরকার জানান, ‘আমি আমার স্ত্রী মাহা আক্তার মনিকে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছি। পরিবেশ অনেক ভালো। কাশফুলের মনকাড়ানো ছোঁয়ায় আমরা ছবি তুলেছি। এখানে আসলে মন ভরে যায়।’

বোনারপাড়া কাজি আজহার আলী সরকারি স্কুলের ছাত্রী মিতালি আক্তার বলেন, ‘আমি ফুলছড়ির কাশবনে এসেছি ছবি তোলার জন্য। আমার খুব আনন্দ লাগছে।’

আবার গাইবান্ধা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ছাত্র মতিউর রহমান তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা কবি ও কবিতায় কাশফুল নিয়ে অনেক কথা পড়েছি। আজ যমুনা নদীর তীরে কাশফুলে মুগ্ধ হয়েছি।’

সাঘাটার একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর জানান, ‘আমি একটু সময় পেলেই ক্যামেরা নিয়ে ছুটে আসি যমুনার ঘাটে। আমি অনেকবার এসেছি ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলার জন্য।’

ময়নুল ইসলাম নামের আরেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, ‘ভিডিও ধারণ করার জন্য বালাসী ঘাট ও ফুলছড়ি ঘাট এলাকা গাইবান্ধা জেলার মধ্যে খুবই দৃষ্টিনন্দন। জেলা ও জেলার বাইরেও অনেক মানুষ আসে এই জায়গায় ঘুরতে।’

গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও লেখক অমিতাভ দাস হিমুন বলেন, ‘গাইবান্ধার বালাসী ঘাট ও ফুলছড়ি ঘাটে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভিড় জমায় শুধু কাশফুলের মাঝে নিজেকে লুকিয়ে ছবি তুলতে। শরৎকালে কাশফুলের শুভ্র ছোঁয়ায় সবার মন ভরে যায়। শিশুরা এখানে আসে একটু আনন্দ পেতে।’

দেশবরেণ্য আলোকচিত্রী ও দৃক্ নিউজের ফটোগ্রাফার কুদ্দুস আলম জানান, ‘শরৎকালে গাইবান্ধার চরে কাশফুল দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। এই কাশফুলের ছবি তুলতে প্রতিনিয়তই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে। আমার তোলা অসংখ্য কাশফুলের ছবি দেশ-বিদেশের বাংলা ও ইংরেজি অনেক পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে এবং অনেক ভিডিও ডকুমেন্টারিতে ব্যবহার করা হয়েছে।