মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের রাধানগর থেকে মোহাজেরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক সংস্কারের কাজে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পৌনে ৬ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও মাত্র ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে গা ঢাকা দিয়েছেন ঠিকাদার। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক, চা-বাগান মালিক এবং ফল চাষিরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বরিশালের মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর হিসেবে রয়েছেন মেহেদী হাসান চৌধুরী।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় কুমার পণ্ডিত প্রকল্প এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি দেখতে পান, পুরো প্রকল্প এলাকাটি অরক্ষিত এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে কাজ চালানোর মতো কোনো শ্রমিক বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। টানা ২৮ দিনের বেশি কাজ বন্ধ রাখাকে চুক্তির মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

কাজ ফেলে উধাও হওয়ার এই গুরুতর অভিযোগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন। ওই নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিঠি পাওয়ার পর গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার জন্য একটি লিখিত ‘ওয়ার্ক প্ল্যান’ জমা দিতে হবে। যদি সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া যায়, তবে ব্যাংকে জমা রাখা ২৯ লাখ ২৭ হাজার টাকার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল এবং মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কালোতালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করার সুপারিশ করা হবে।

এদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, শামসুদ্দিন ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অনেকে। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে তারা সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনে নামবেন।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসান চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানান, প্রকল্পটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনি আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই তথ্যের পর থেকে উভয় পক্ষের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “৬ কিলোমিটারের সড়ক নির্মাণের মাত্র ২০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি পাওয়া গেছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে চুক্তি বাতিল ও ব্ল্যাকলিস্টের চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠানো হবে।”

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, “জনভোগান্তি নিয়ে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। এলজিইডির সঙ্গে কথা হয়েছে, দ্রুত বিকল্প উপায়ে বাকি কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”

মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক আহমদ জানান, ঠিকাদারের এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জবাব সন্তোষজনক না হলে দ্রুতই নতুন দরপত্রের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।