ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকতের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শেরফানে রাদারফোর্ডের আউটের ক্ষেত্রে আল্ট্রাএজ প্রযুক্তির ব্যাখ্যা এবং তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
ঘটনাটি ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ৩০তম ওভারের শেষ বলে। নামান ধীরের করা বলটি কাট করতে গিয়েছিলেন রাদারফোর্ড। বলটি উইকেটের পেছনে লোকেশ রাহুলের হাতে চলে গেলে তিনি দ্রুত কট বিহাইন্ডের আবেদন জানান। অনফিল্ড আম্পায়ারও তাৎক্ষণিকভাবে আউট ঘোষণা করেন। তবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি রাদারফোর্ড এবং তিনি দ্রুত রিভিউ নেন।
তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন শরফুদ্দৌলা। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি ব্যাটের খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় আল্ট্রাএজে একটি স্পাইক তৈরি হয়েছে। তবে একই সময়ে বল এবং ব্যাটের মধ্যে একটি দৃশ্যমান ফাঁকও লক্ষ্য করা যায়। এই পরিস্থিতি থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত— আল্ট্রাএজের ওই স্পাইকটি কি সত্যিই বল ব্যাটে লাগার কারণে হয়েছিল, নাকি ব্যাট প্যাডে লাগার ফলে তৈরি হয়েছিল?
সংশ্লিষ্ট রিপ্লে বিশ্লেষণ করে শরফুদ্দৌলা মনে করেন, মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ সেখানে নেই। ফলে তিনি আউটই ঘোষণা করেন। সিদ্ধান্তটি ঘোষণার পর রাদারফোর্ড নিজের বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন।
মাঠের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই সিদ্ধান্তটি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। অনেক বিশেষজ্ঞ ও সমর্থকের দাবি, আল্ট্রাএজে যে স্পাইক দেখা গেছে, তা বল ব্যাটে লাগার কারণে নয়, বরং ব্যাট প্যাডে লাগার কারণেই হয়েছিল।
বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে রাদারফোর্ডের ইনিংস শেষ হয়ে গেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ৩৫২ রানের বিশাল লক্ষ্য ১০ বল হাতে রেখেই স্পর্শ করে ক্যারিবীয়রা। পাঁচ উইকেটের এই জয়ের মাধ্যমে তারা ভারতের সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্নও রুখে দেয়।
ম্যাচে শাই হোপের দুর্দান্ত ব্যাটিংই মূলত বড় লক্ষ্য তাড়া করার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। রাদারফোর্ডের আউটের সময় সফরকারীরা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। তাঁর বিদায়ের পর কিছুটা চাপ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।