প্রীতি ম্যাচগুলোর ব্যস্ততা শেষ। এখন আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে এক বিষাদময় মুহূর্ত। আকাশি-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। যদিও এটি একটি প্রীতি ম্যাচ হিসেবে তালিকাভুক্ত, তবে প্রতিটি আর্জেন্টাইন এবং ফুটবল প্রেমীর কাছে এটি হবে মেসি-বিরহের এক করুণ সূচনা। এই কিংবদন্তিকে সবচেয়ে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া কোচ লিওনেল স্কালোনি এই বিদায়কে কীভাবে দেখছেন, তা এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

আজ মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করার পর মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে কথা বলেন কোচ স্কালোনি। তিনি মনে করেন, মেসি মাঠে যে ধরনের জাদুকরি মুহূর্ত তৈরি করেন, তেমন কিছু তিনি অন্য কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখেননি। মেসির সেই অনন্য জাদুর সাক্ষী হওয়ার যে অনুভূতি, তা তিনি ভীষণভাবে মিস করবেন।

আর্জেন্টিনা কোচের ভাষায়, “মাঠে মেসি যা করে, তা আমি অন্য কারও মধ্যে দেখিনি। এ অনুভূতি মিস করব। তার বিদায়ী ম্যাচের জন্য এমন পাঁচটি মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের টিকিটও বিক্রি করা সম্ভব ছিল।”

মেসির বিদায় নিয়ে ফুটবল বিশ্ব যে চরম আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে, তা স্কালোনির কথায় স্পষ্ট। তাঁর মতে, মেসি সম্পর্কে যা বলার তা ইতিপূর্বেই বলা হয়ে গেছে; এখন কেবল তাঁর শেষ খেলাটি উপভোগ করার সময়। আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলতে মেসি ইতিমধ্যে নিজের জন্মভূমিতে ফিরেছেন। বুয়েনস আইরেসে বেনিন ম্যাচের আগে সতীর্থদের সঙ্গে শেষবারের মতো অনুশীলনে অংশ নেবেন তিনি।

স্কালোনি আরও বলেন, “সে চলে গেলে আমরা যে নস্টালজিয়ার কথা বলি, এখন তো সে সত্যি আর থাকবে না। বুঝতে পারি, সবাই কত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে। মনুমেন্তালে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই দিনটি সবার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই বিশেষ দিনের অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ...সে আসলে এমন এক শূন্যতা রেখে যাচ্ছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।”

সেই অপূরণীয় শূন্যতার মুখোমুখি হওয়ার আগে আজ আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে মেসি-পরবর্তী সময়ের জন্য এক ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে স্কালোনির দল। তবে মরক্কোতে ফ্লাইট বাতিলের জটিলতার কারণে বুরকিনা ফাসোর মূল জাতীয় দলের সবাই আর্জেন্টিনায় আসতে পারেনি। তাদের দলের অধিকাংশ সদস্যই ছিলেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড় এবং মূল দলের মাত্র একজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এত প্রতিকূলতার মাঝেও ম্যাচটি খেলতে আসায় বুরকিনা ফাসোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, “আমরা বুরকিনা ফাসো এবং যারা খেলতে এসেছে, তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের এ প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই; তারা ফুটবলের মর্যাদা রক্ষা করেছে।”

ম্যাচে বুরকিনা ফাসো কেন সাতটি গোল খেলল, সে বিষয়ে স্কালোনির ব্যাখ্যা ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, “ম্যাচটিকে আমরা ফাইনাল ম্যাচের মতো করেই খেলার চেষ্টা করেছি, যাতে তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়। তারা যে এসেছে, সে জন্য আমরা ভীষণ কৃতজ্ঞ; কারণ, চাইলে না-ও আসতে পারত এবং ম্যাচটি বাতিল হয়ে যেত। এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, তাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো এবং এরপর ম্যাচ খেলা—কোনোটিই সহজ ব্যাপার ছিল না।”

ম্যাচের একাদশে সবাইকে বদলি করার বিষয়ে স্কালোনি জানান, “নিয়ম অনুযায়ী, ফিফাকে যদি আগে থেকেই জানানো হয় এবং প্রতিপক্ষ দল যদি রাজি থাকে, তবে ১১টি পরিবর্তন করা সম্ভব এবং তা সত্ত্বেও ম্যাচটি ‘এ’ মর্যাদার (আন্তর্জাতিক) ম্যাচ হিসেবেই গণ্য হবে।”

চলতি ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির প্রথম দুই ম্যাচে মোট ১১টি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বলিভিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তারা ৪-০ গোলের জয় পায়। এখন দেখার বিষয় বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে কী ঘটে। তবে সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সামগ্রিক খেলার চেয়ে ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে কেবল মেসির ওপর। কারণ, আকাশি-সাদা জার্সিতে এরপর আর তাঁকে দেখা যাবে না।