নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড-ভূইগড় এলাকায় চলন্ত বাসে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রীর টাকা, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূইগড় স্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে জামালপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে সিফাত পরিবহনের বাসটি ছেড়ে যায়। পথে সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী এলাকায় কয়েকজন যাত্রী নেমে যাওয়ায় বাসে তখন ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, চৌরঙ্গী এলাকা থেকে ৪-৫ জন ব্যক্তি বাসে ওঠেন এবং টাকা হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করেন এবং সবার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর ভূইগড় এলাকায় পৌঁছে তারা বাস থেকে নেমে পালিয়ে যান। যাত্রীদের ভাষ্যমতে, বাসে ওঠার পর ওই ব্যক্তিরা চালকের বুকে বড় ছুরি ধরে ভয় দেখান এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একে একে সবার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।

সিফাত পরিবহনের নারায়ণগঞ্জ কোর্ট এলাকার টিকিট কাউন্টারের কর্মী বিপ্লব জানান, ভোরে অভিযুক্তরা বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর চালক যাত্রীদের নিয়ে কাউন্টারে আসেন এবং সেখানে লুটের কথা জানান।

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বাসটি সর্বশেষ যেখানে এসে থামে, সেই চামারি এলাকা ও আশপাশে তখন পুলিশ সদস্যরা টহলের দায়িত্বে ছিলেন। পরে যাত্রীদের কাছ থেকে জানা যায়, সাইনবোর্ডের চৌরঙ্গী এলাকা থেকে বাসটিতে লুটের ঘটনা শুরু হয়ে ভূইগড় এলাকায় এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নেমে যান। ঘটনার বিবরণ শুনে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তারা ছিনতাইকারী হতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

তিনি আরও জানান, অপরাধীরা চলে যাওয়ার পর বাসচালক ও যাত্রীরা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। বাসচালক বা যাত্রীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।