পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন প্রায় দুই দশক গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন। তাঁরা জামালপুরে গ্রামের বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আজ শুক্রবার তিনি মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে গাজীপুরে ফিরছিলেন। কিন্তু পথে দুপুরে ময়মনসিংহে বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা মোফাজ্জলসহ তাঁর চার প্রজন্মের চারজন নিহত হয়েছেন।

ওই সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটির চালক এবং আরও এক দম্পতি নিহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও আছেন অটোরিকশাচালক সুজন আলী (৪৪); তিনি জামালপুর সদরের বীর গোবিন্দপুর গ্রামের আজর উদ্দিনের ছেলে এবং জামালপুর সদর উপজেলার বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তাঁর স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

ময়মনসিংহ নগরের রহমতপুর বাইপাস সড়কের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় আজ বেলা সোয়া একটার দিকে রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর সাতজনের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন সরকার আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নিহত সাতজনের মধ্যে একই পরিবারের চারজন, এক দম্পতি ও অটোরিকশার চালক রয়েছেন। স্বজনেরা মরদেহ নেওয়ার জন্য এসেছেন। এ বিষয়ে আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে লাশ নিতে এসেছেন নিহত মোফাজ্জল হোসেনের ছোট ভাই মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, মোফাজ্জলের দুই মেয়ে ও এক ছেলে ছিল। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরে থাকতেন। মেয়েকে এলাকায় বিয়ে দিয়েছিলেন। আজ সকালে মাকে নিজের কাছে বেড়াতে নিতে এলে মেয়ে ও নাতিও সঙ্গে যাওয়ার বায়না ধরেন। তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু এ যাওয়া যে শেষ যাওয়া হবে, সেটি তাঁরা বুঝতে পারেননি।

ময়মনসিংহ নগরের বাদেকল্পা গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যান এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিকট শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। দেখি, অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। ভেতরে তাকিয়ে দেখি দুজন নড়াচড়া করছেন, শ্বাস নিচ্ছেন। তখন শিশু ও ওই নারীকে টেনে বের করে আনি। রাস্তার পাশে রেখে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যেই দুজন মারা যান।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে একটি বাঁক আছে। বেপরোয়া গতিতে আসা দুটি যানবাহন বাঁকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায় বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’