মোটরসাইকেলে জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাচ্ছিলেন নাজিম উদ্দিন। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে তিনি মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি দেখেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি বাসের ভেতরের দিকে ঢুকে দুমড়েমুচড়ে গেছে। অটোরিকশার ভেতরে এক নারী ও এক শিশু জীবিত। পরে দুজনকে উদ্ধার করে বাইরে আনার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে দুজনেরই মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ নগরের বাদেকল্পা গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি আজ শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে মার্কাজ মসজিদের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া নাজিম উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিকট শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি, অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। ভেতরে তাকিয়ে দেখি, দুজন নড়াচড়া করছেন, শ্বাস নিচ্ছেন। তখন শিশু ও ওই নারীকে টেনে বের করে আনি। রাস্তার পাশে রেখে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যেই দুজন মারা যান।’

নাজিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমার জীবনে এমন দুর্ঘটনা আর দেখিনি। দুর্ঘটনার পর অনেকে সাহায্যে এগিয়ে আসার বদলে ছবি ও ভিডিও করছিলেন। অনেককে ডাকলেও উদ্ধারকাজে তাঁদের কাজে লাগানো যায়নি।’

ময়মনসিংহ নগরের রহমতপুর বাইপাস সড়কের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় আজ বেলা সোয়া একটার দিকে বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন পুরুষ, তিন নারী ও একটি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে সাতজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান চালক ও তাঁর সহকারী। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে। তবে বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের আটক করার চেষ্টা চলছে। নিহত ব্যক্তিরা অটোরিকশার যাত্রী।

নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। তাঁরা জামালপুর থেকে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। মোফাজ্জল গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।