বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টা ৮ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে তিনি এই দাবি জানান। পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেছেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। সাজানো মামলা প্রত্যাহার করুন। তিনি কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেননি। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আক্তারুজ্জামান কেবল যাত্রী হয়রানি এবং প্রবাস থেকে ফেরত বাংলাদেশিদের প্রতি উপেক্ষা ও অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করেছিলেন। শফিকুর রহমান বলেন, "তিনি যে বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন, তার ভুক্তভোগী সাক্ষী বিমানবন্দরের উপস্থিত যাত্রীরা।"

জামায়াত আমির সতর্ক করে বলেন, "অতএব বিমানবন্দরের অনিয়ম, যাত্রী হয়রানি ও অসংগতিকে চাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করে থাকলে, অশনি সংকেত। ভুক্তভোগী জনগণ এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবেন না।"

এদিকে, আক্তারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পবিত্র ওমরা পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরত আসার সময় আক্তারুজ্জামান যাত্রী হয়রানির শিকার হন। এর প্রতিবাদে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে অসদাচরণের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ নিজেই জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। অথচ তদন্তের আগেই আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা করা হয় এবং সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমি তার বিরুদ্ধে মামলার ও গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"

তিনি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, দীর্ঘ অপেক্ষা, অসম্মানজনক আচরণ, লাগেজ হারানোর অভিযোগ এবং নারী, অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানসহ বহু যাত্রী যে ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।"

সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান, "অবিলম্বে আক্তারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, সেবার মান নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠারও দাবি জানাচ্ছি।"