জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সবকটিতেই পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্টটি হতাশায় শেষ করলেন কোচ টমাস ডুলির দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বিরতিতেই ৬-১ ব্যবধানে পিছিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গুছিয়ে খেললেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবার গোলের ধাক্কা খেয়ে চূড়ান্ত স্কোর দাঁড়ায় ৯-২।

ইন্দোনেশিয়ার হয়ে একাই পাঁচ গোল করেন মিচেল লি বেকার। তিনি ১১ মিনিটে ওলে রমনির পাস থেকে প্রথম গোল করেন। ২০ মিনিটে জটলায় দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এর আগে সমতায় ফেরার সুযোগ পেলেও শমিত সোম বল নিয়ন্ত্রণে না পারায় উল্টো পাল্টা আক্রমণে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৩১ মিনিটে রিজকি রিদোর গোলে স্কোর হয় ৩-০।

পাঁচ মিনিট পর বাঁ দিক থেকে সুকি ইতোফুসার ক্রসে হেড করে প্রথম গোল করেন শাহরিয়ার ইমন। কিন্তু সেই স্বস্তি টেকেনি এক মিনিটও। ৩৭ মিনিটে রমনির পাস থেকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বেকার। ৪২ মিনিটে হেডে নিজের চতুর্থ গোল করেন তিনি। যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে জাস্টিন হাবনার গোল করে বিরতিতে ৬-১ ব্যবধান তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে সুকি ও ইমনের বদলে ফারহান আলী ও মিনহাজুল আবেদীনকে নামান ডুলি। চোট পাওয়া শমিতের বদলে মাঠে আসেন সোহেল রানা। ৬০ মিনিট পর্যন্ত আর কোনো গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। ৮৪ মিনিটে রমনির গোল অফসাইডে বাতিল হয়। ৮৯ মিনিটে বক্সে ঢুকে ফারহানের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

এরপরই ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে আবার গোলের ঝড়। লুক বিকারি সপ্তম গোলটি করেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে প্লেসমেন্টে ফারহান দ্বিতীয় গোল করেন। গোলের পর উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে, যাতে করে যোগ করা সময় সাত মিনিট বাড়ানো হয়। শেষ দুই মিনিটে কেভিন ডিকস এবং ৯০+৭ মিনিটে বেকারের পঞ্চম গোল করে চূড়ান্ত স্কোর ৯-২ হয়।

এই জয়ে মালয়েশিয়াকে গোল ব্যবধানে পেছনে ফেলে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ইন্দোনেশিয়া। একই সময়ে সিঙ্গাপুরকে ৬-০ গোলে হারালেও শেষ মুহূর্তের দুই গোলে মালয়েশিয়াকে টপকে যায় স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের জন্য আসরটি ছিল সম্পূর্ণ হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০, দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ এবং শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ হারে। তিন ম্যাচে মোট ১৩ গোল হজম করার পাশাপাশি মাত্র দুটি গোল করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এই দুটি গোলই এসেছে শেষ ম্যাচে।