জাকার্তার গেলোরা বুং কর্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলে বিশাল ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। শক্তি ও সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের কাছে হারটা অপ্রত্যাশিত ছিল না, তবে এত বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়া ফুটবল প্রেমীদের জন্য আঘাতের। এমন অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে বিরল।

কোচ টমাস ডুলির দল মাঠে নামলেও তাঁর পরিকল্পনার কোনো ছিটেফোঁটা পর্যবেক্ষণ করা যায়নি। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলা সত্ত্বেও মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বারবার আক্রমণের মুখে পড়ে দলটি। ইন্দোনেশিয়ার গতিময় আক্রমণের সামনে দিশাহারা হয়ে পড়ে রক্ষণভাগ। এই জয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।

এই হার বাংলাদেশের ফুটবলের কিছু পুরোনো দুঃস্মৃতি তুলে ধরে। ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৯৮২ সালে ইরানের কাছে ৯-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড। আজকের ৯-২ হারে সেই রেকর্ড আরও বাড়ল। তিন ম্যাচে জয়শূন্য থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের গোল সংখ্যা মাত্র দুটি, অন্যদিকে হজম করতে হয়েছে ১৩টি গোল। যদিও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তবুও দলের পারফরম্যান্স চিন্তার বিষয়।

মূলত আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির লক্ষ্যে ভারতের নাম প্রত্যাহারের পর ফিফার আমন্ত্রণে এই টুর্নামেন্টে সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কিন্তু তিন ম্যাচে তিন হার এবং ১৩ গোল হজমের হতাশা নিয়ে প্রস্তুতি শেষ হলো।

ইন্দোনেশিয়ার গতি ও শক্তির সামনে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তছনছ হয়ে যায়। ইন্দোনেশিয়ার স্ট্রাইকার মিচেল বেকারের অবদান উল্লেখযোগ্য। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই ১৯ বছর বয়সী খেলোয়াড় একাই ত্রাস ছড়িয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার মোট ৯ গোলের মধ্যে ৫টিই এসেছে তাঁর পা থেকে।

বাংলাদেশের পক্ষে শুধুমাত্র দুটি গোল করার সুযোগ পেয়েছে। ৩৬তম মিনিটে শুকি ইতোফুসার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে গোল করেন ফারহান আলী। এরপর মাঠে উত্তেজনা দেখা দেয়, যেখানে সাদ ও ইন্দোনেশিয়ার ওলে রোমেনির মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে রেফারি দুই খেলোয়াড়কেই হলুদ কার্ড দেখান।

প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিবেচনায় হার অনাকাঙ্ক্ষিত নয়, কিন্তু এতটা শোচনীয় অবস্থা কল্পনাতীত ছিল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে কোচ টমাস ডুলিকে এই পারফরম্যান্স বিশেষ করে ভঙ্গুর রক্ষণভাগ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।